পুজো স্পেশাল বিভাগে ফিরে যান

করোনা পরিস্থিতিতে অল্প বাজেটেই পুজোর প্রস্তুতি ইন্দিরাপুরম, নয়ডার প্রবাসী বাঙালিদের

October 15, 2020 | 2 min read

‘শরীর থাকুক দূরে, মনটা কাছাকাছি।’ করোনা পরিস্থিতিতে আপাতত এই মন্ত্রে ভর করেই পুজোর আনন্দে মাততে চাইছেন ইন্দিরাপুরম, নয়ডার প্রবাসী বাঙালিরা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দিল্লি সংলগ্ন ইন্দিরাপুরম, নয়ডা এলাকার অধিকাংশ পুজোতেই অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছে বাজেট। পরিবর্তন হয়েছে ভেন্যুরও। ছোট হয়েছে প্রতিমার উচ্চতা। এমনকী কোপ পড়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপরেও। পুজোর উৎসবে প্রধানত ভার্চুয়াল মাধ্যমের উপরই ভরসা রাখছেন উদ্যোক্তারা। নমো নমো করে পুজো সারার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। প্রান্তিক কালচারাল সোসাইটির সহ-সভাপতি নীলাদ্রিদেব চৌধুরী বললেন, এবার বেশি জোর থাকছে স্বাস্থ্যবিধি মানার উপরেই। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রত্যেক দর্শনার্থীকে খাতায় নাম এবং যোগাযোগের নম্বর লিখতে হবে। যাতে প্রয়োজনমতো ‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’ করা যেতে পারে। প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্রিনিংও হবে। প্রান্তিকের পুজোয় এবার পুষ্পাঞ্জলী বারণ। মায়ের ভোগ তৈরি করবেন যাঁরা, তাঁদেরও কোভিড টেস্ট করাবে প্রান্তিক। পুজোর সামগ্রীতে রাখা যাবে না কাটা ফল। বাজেট কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। প্রতিমার উচ্চতা কমছে প্রায় ৯ ফুট।

ইন্দিরাপুরমের ‘বঙ্গতরু’র প্রতিমার উচ্চতা ১৮ ফুট থেকে কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় আট ফুটে। পুজোর বাজেটও কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লক্ষে। বঙ্গতরুর সহ-সভাপতি সুরজিৎদে পুরকায়স্থ বলেন, ‘খোলা প্রাঙ্গণে নয়। সোসাইটির কালী মন্দিরের বেসমেন্টেই পুজো হবে। কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে না। পুষ্পাঞ্জলীও হবে না।’ ইন্দিরাপুরম ‘আপনজন’-এর পুজোয় এবার প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র কমিটির সদস্য ও তাঁদের পরিবারের লোকেদের। কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক নীলাঞ্জনা লাহিড়ি বলেন, ‘কঠিন হলেও এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’ প্রতিমার উচ্চতা কমিয়ে করা হয়েছে পাঁচ ফুট। গতবারের তুলনায় বাজেট কমেছে প্রায় এক চতুর্থাংশ। শিপ্রা রিভেরা পুজো কমিটির অন্যতম সদস্য অমিয় দাস বললেন, ‘পুজো হচ্ছে প্রায় নমো নমো করেই।’

নয়ডা সেক্টর-৬১ এর ‘বলাকা’ ট্রাস্টের সম্পাদক অনুজ চক্রবর্তী জানালেন, ‘পুষ্পাঞ্জলী দিতে হলে ফুল, বেলপাতা বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে হবে। পুজো কমিটি সরবরাহ করবে না। অনলাইনে পুজো দেখার ব্যবস্থা থাকবে।’ তবে প্রতিবার যাঁরা পুজোর কাজে ব্যস্ত থাকেন, অথচ এবার করোনার কারণে আসতে পারছেন না, তাঁদের প্রত্যেককে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছেন পুজোর উদ্যোক্তারা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাবেকিয়ানা বজায় রেখেই পুজোর আয়োজন করছে নয়ডা বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন (নয়ডা কালীবাড়ি)। প্রতিমার উচ্চতা কমে হয়েছে প্রায় পাঁচ ফুট। বাজেট ১০ লক্ষেরও কম। অ্যাসোসিয়েশনের ম্যানেজিং কমিটির এগজিকিউটিভ সদস্য অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘আমরা ছ’টি লাইন তৈরি করব। প্রতিটি তৈরি হবে ছ’ফুট দূরত্বে। প্রতিটি লাইনে সর্বোচ্চ পাঁচজন দর্শনার্থী দাঁড়াতে পারবেন। মাস্ক এবং আরোগ্য সেতু অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক।’

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Durga Puja 2020, #Indirapuram, #Noida

আরো দেখুন