ভ্রমণ বিভাগে ফিরে যান

ঘুরে আসুন দক্ষিণেশ্বর কালি মন্দিরের রেপ্লিকা থেকে

November 12, 2020 | 2 min read

হঠাৎ দেখলে দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দির বলে ভুল হতেই পারে। কারণ, দক্ষিণেশ্বরের মতোই নবরত্ন শৈলীতে তৈরি ব্যারাকপুরের শিবশক্তি অন্নপূর্ণা মন্দিরটি। সঙ্গে রয়েছে নাটমন্দির ও শিব মন্দিরও। তবে দক্ষিণেশ্বরের মতো ১২টি নয়। এখানে রয়েছে ৬টি শিব মন্দির। 

ব্যারাকপুরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া হুগলি নদীর রাসমণি ঘাটের খুব কাছেই রয়েছে শিবশক্তি অন্নপূর্ণা মন্দিরটি। যেখানে নিত্য পুজো দেখার পাশাপাশি নেহাত মন্দির দর্শনের ছলেই ভিড় জমান পর্যটকরা। এবং দক্ষিণেশ্বরের কালী মন্দিরের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় বেশ কিছু বাংলা ছবির শ্যুটিং-ও হয়েছে এই মন্দির প্রাঙ্গনে। 

শিবশক্তি অন্নপূর্ণা মন্দিরের ইতিহাস:

কাশীতে অন্নপূর্ণা দর্শন করতে যাচ্ছিলেন রানি রাসমণি। বর্তমান হুগলি নদী দিয়েই বয়ে চলেছিল তাঁর বজরা। কিন্তু দক্ষিণেশ্বরের কাছে গিয়ে এক ভয়ানক দুর্যোগের কবলে পড়েন রানি ও তাঁর বজরা। ফলে সেখানেই নোঙর ফেলা হয় সে রাতের জন্য। 

রাতে রানিমা স্বপ্নাদিষ্ট হন— কাশী না গিয়ে তিনি যেন ভাগীরথীর পাড়ে এ স্থানেই নির্মাণ করেন এক মন্দির। এবং আয়োজন করেন নিত্য পুজোর। 

রানি রাসমণির অন্নপূর্ণা দর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জামাই মথুর মোহন বিশ্বাসও। ফলে তাঁরও কাশির অন্নপূর্ণা দর্শন হয়নি। এবং সেই সাধ পূরণ করার জন্য বাংলার মাটিতেই তিনি এক অন্নপূর্ণা মন্দির নির্মাণ করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু, তাঁর সেই কাজ সফল করেন স্ত্রী জগদম্বা দেবী।  

জানা যায়, দক্ষিণেশ্বর মন্দির নির্মাণে যে কারিগররা নিযুক্ত ছিলেন, তাঁদেরই অনেকে ছিলেন জগদম্বা দেবীর অন্নপূর্ণা মন্দির তৈরির সময়। যদিও, দক্ষিণেশ্বর মন্দির তৈরির ২০ বছর পরে নির্মাণ করা হয় অন্নপূর্ণা মন্দিরটি।

মন্দির দর্শনের সময়:

  • গরমকালে ভোর ৫:৩০টা থেকে দুপুর ১২:৩০টা পর্যন্ত। আবার বিকেল ৪টে থেকে সন্ধে ৮টা পর্যন্ত।
  • শীতকালে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। আবার বিকেল দুপুর ৩:৩০টে থেকে সন্ধে ৮টা পর্যন্ত।

যাতায়াত:

  • ট্রেনে এলে ব্যারাকপুর স্টেশনে নেমে অটোরিকশ করে যেতে হবে তালপুকুর  বাস স্টপ পর্যন্ত। সেখান থেকে হেঁটে বা রিকশ করে যাওয়া যায় রাসমণি ঘাট।
  • গাড়ি বা বাসে এলে বি টি রোডের তালপুকুর বাস স্টপে নেমে হেঁটে বা রিকশ করে যাওয়া যায় অন্নপূর্ণা মন্দিরে। 
TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Traveling

আরো দেখুন