বাংলার রায় ২০২১
ভ্রমণ বিভাগে ফিরে যান

ঘুরে আসুন প্রকৃতির কোলে পৈতা গ্রাম থেকে

February 19, 2021 | 2 min read

এক এক পাখিদের স্বর্গ রাজ্য। উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় ক্যাকটাস, বট-অশ্বত্থ। নগরজীবনের দৌরাত্ম্যে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া একখণ্ড সবুজভূমে। প্রকৃতির কোলে নির্জনে কাটানোর নতুন ঠিকানা, বজবজ-২ ব্লকের গজাপোয়ালির পৈতা গ্রাম।   

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার হুগলি নদীর কাছাকাছি প্রায় সাত বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে এই পর্যটন কেন্দ্র। প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের সেখানে অবাধ যাতায়াত। সতর্কীকরণ একটাই — পিকনিক, হইহুল্লোর একেবারেই নয়। ফুল-পাখির সঙ্গে চলতে পারে নির্ভেজাল আড্ডা। রয়েছে নাম না জানা হরেক ফল, ফুলের গাছ। ক্যাকটাসের বাগান। স্থানে স্থানে চারা গাছের নার্সারি। বট, অশ্বত্থ ও পাকুড়। প্রজাপতি পার্ক। নানা প্রজাতির পাখিদের আনাগোনা। নিরবে বসে তাদের কলতান শুনুন। যত খুশি ছবি তুলুন। কিন্তু  বিশৃঙ্খলা নৈব নৈব চ।  

স্থলজ জীব বৈচিত্রের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনই তাকে ঘিরে রয়েছে জলজ প্রাণের সমাহারও। ছোট ছোট খাল-বিল-পুকুর। কোথাও চাষ হচ্ছে দেশি-বিদেশি মাছ। কোথাও মুক্তো কিংবা মণিপুরি ইলিশ। খালের ভিতর বোটিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষ ধরনের নৌকায় জলবিহার। দেখা মিললেও মিলতে পারে ইলিশ রাণীর। স্থলভাগে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাও আলাদা। দু’ পাশে গাছের সারি। মাঝখানে নুড়ি বিছানো পথ। পাঠশালার অন্দরমহলে যতই ঢুকবেন ততই মুগ্ধ হতে হবে আপনাকে। এলাচ, দারচিনি ও লবঙ্গ গাছের আলিঙ্গনে সে এক অনুভূতি।   

পর্যটকদের জন্য রয়েছে নির্জনবাসের সুযোগ। সেই বাসস্থান সম্পূর্ণ গাছগাছালির। ব্যস্ততার ফাঁকে কয়েক ঘণ্টা বেড়িয়ে যাওয়া যায়। প্রবেশমূল্য মাথাপিছু মাত্র ৫০ টাকা। প্রতিটি গাছের তলায় রয়েছে কাঠের চেয়ার, টেবিল। বাচ্চাদের খেলাধূলার জন্য আলাদা পার্ক। অন লাইনে বুকিং করে এখানে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আপ্যায়ন করবেন স্ব-নির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা। জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা সবজি, পুকুরের মাছ ধরে খাবার তৈরি করে দেবে তাঁরা। কচি পাঠার ঝোল, কোয়েল পাখির মাংসও থাকে মেনুতে। ছিপ ফেলে মাছ ধরার সখও মেটাতে পারেন যে কেউ। 

কীভাবে যাবেন

ধর্মতলা, তারাতলা ও ঠাকুরপুকুর থেকে বাস এবং অটোতে বুড়ুল নতুন রাস্তার মোড়। সেখানে নেমে যাওয়া যায় পৈতা গ্রামে। 

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Travelling

আরো দেখুন