আন্তর্জাতিক বিভাগে ফিরে যান

ইলন মাস্কের হাতে মালিকানা যেতেই টুইটার ছাড়ার হিড়িক

April 26, 2022 | 2 min read

টুইটার কিনেই নিলেন ধনকুবের তথা টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ক। গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। অবশেষে সব জল্পনার অবসান হল। ইলন মাস্ক ৪৪ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে টুইটার কেনার কথা ঘোষণা করেছেন। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩,৩৬,৯৪১ কোটি ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে মাইক্রোব্লগিং সাইটটির মালিকানা পেলেন তিনি। শেয়ার কেনার জন্য পুরো টাকাটাই মাস্ক নগদে দিচ্ছেন বলেও জানা গিয়েছে। কিন্তু টুইটারের মালিকানা ইলন মাস্কের হাতে যেতেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। টুইটারজুড়ে চলছে লিভিং টুইটার ট্রেন্ডের ঝড়। ব্যবহারকারীরা কি সত্যিই টুইটার ছেড়ে দেবেন? প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানান মহলে।

https://twitter.com/FukuokaNFT/status/1518805319484264448?s=19
https://twitter.com/MediaDnow/status/1518830821221801984?s=19

প্রসঙ্গত কয়েক দিন আগেই প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার বিনিময়ে মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারের ৯.২ শতাংশ মালিকানা কিনে নিয়েছিলেন ইলন। এবার পুরো মালিকানাই নিজের হাতে নিয়ে নিলেন ইলন। মাস্কের দাবি, তিনি টুইটারের অংশীদার হওয়ার সময়ে ভেবেছিলেন টুইটার বিশ্ব জুড়ে বাকস্বাধীনতার মূল মাধ্যম হয়ে উঠবে। কিন্তু বিনিয়োগ করার পরেই নাকি তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, বর্তমান অবস্থায় টুইটারের পক্ষে তা কখনই সম্ভব নয়। তাই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সংস্থা হিসেবে এর বদল ঘটানোই তাঁর লক্ষ্য।

অন্যদিকে, ইলন মাস্কের হাতে চলে গেলে টুইটারের ভবিষ্যৎ ‘অন্ধকার’- সোমবার টুইটারের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করার সময় নাকি এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেন টুইটারের সিইও পরাগ অগ্রবাল। টুইটারের ভবিষ্যত কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স তরফে এমনটাই দাবি করা হয়েছিল। রয়টার্সের দাবি, পরাগ বলেছেন, ‘‘টুইটার এক বার হস্তান্তর হয়ে গেলে এই সংস্থা কী ভাবে কাজ করবে তা আমরা জানি না।’’ কিন্তু টুইটার বোর্ডের তরফে ব্রেট টেলর জানান, দীর্ঘ বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে মাস্কের প্রস্তাব লাভজনক। সংস্থার কর্মকর্তাদের বিশ্বাস টুইটারের প্রত্যেক শেয়ার হোল্ডারের জন্য এই সিদ্ধান্তই সবচেয়ে ভাল। টুইটারের সিইও পরাগ অগ্রবালও তখন বলেন, ‘‘টুইটারের একটি উদ্দেশ্য এবং প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। যা সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করে। আমাদের পুরো দলের জন্য আমি ভীষণ গর্ব অনুভব করছি।’’

কিন্তু এসবের পরেও ভাবাচ্ছেন সাম্প্রতিক ট্রেন্ডটি, ব্যবহারকারীরাই যেকোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সম্পদ, মুল চালিকা শক্তি। এবার তারাই যদি ছাড়তে শুরু করেন তবে কি আর টুইটারের প্রাসঙ্গিকতা থাকবে? বিশ্বজুড়েই এই ট্রেন্ডের ঝড় চলছে। ব্যবহারকারীরা সাফ লিখছেন, তারা টুইটার ছাড়তে চলেছেন। তবে যখন থেকে ইলন মাস্কের টুইটার কেনার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছিল তখন থেকেই একটু একটু করে টুইটার ছাড়ার কথা প্রকাশ্যে লিখছিলেন ব্যবহারকারীরা। আর মাস্ক কিনতেই তা তুমুলভাবে শুরু হয়েছে।

তবে এর উল্টো ঘটনাও ঘটছে, কিছু কিছু টুইটার ব্যবহারকারী এই ট্রেন্ডকেও কটাক্ষ করছেন। তাদের দাবি, ছাড়তে হলে ছেড়ে দিন! বলার কি আছে। ট্রাম জিতলে আমেরিকা ছেড়ে দেব ট্রেন্ডের সূত্রে ধরে লিভিং টুইটার ট্রেন্ডটির তরলীকরণ করছেন কেউ কেউ। আদৌ মানুষজন সত্যি সত্যি টুইটার ছাড়বেন কিনা, আশা করা যায় আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তা জানা যাবে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#twitter, #Elon Musk, #laeving twitter

আরো দেখুন