দিল্লিতে শাহের দপ্তরের সামনে তৃণমূল সাংসদদের ধরনায় বাধা, মহিলা MP-দের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, টেনে হিঁচড়ে তোলা হল প্রিজন ভ্যানে

January 9, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ০৯:৩০: বৃহস্পতিবার তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের সল্টলেকের কার্যালয় এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল ও প্রার্থী তালিকা চুরি করতে ইডি হানা। যা নিয়ে তিনি সরাসরি তোপ দাগেন অমিত শাহের বিরুদ্ধে। শুক্র সকালে তৃণমূল সাংসদেরা পৌঁছে গিয়েছিলেন অমিত শাহের দপ্তরে। ধরনা থেকে তাঁদের প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছে। রীতিমতো ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি। টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলা হত শতাব্দী রায়, মহুয়াদের। পড়ে যান রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।

আইপ্যাকের অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার প্রতিবাদ শুক্র সকালে পৌঁছে গিয়েছিল দিল্লিতে। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দপ্তরের সামনে ধরনায় বসেন তৃণমূল সাংসদরা।
ধরনায় বসেছিলেন রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, বাপি হালদার, সাকেত গোখলে, প্রতিমা মণ্ডল, কীর্তি আজাদ, শর্মিলা সরকার। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা দিল্লি পুলিশের। তৃণমূল সাংসদদের কার্যত চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ। এখনও জানা যায়নি তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীকের বাড়ি থেকে ফাইল হাতে বেরিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রণংদেহী মেজাজে শাহকে ‘মোস্ট ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার, নটি হোম মিনিস্টার’ বলে কটাক্ষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার অভিযোগ, প্রতীক জৈন এবং আইপ্যাকের অফিসে ইডি হানার মূল উদ্দেশ্য তৃণমূলের যাবতীয় গোপন নথি হাতিয়ে নেওয়া। দলের প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দিয়েছে ইডি, এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘‘ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছিল! আমি সেগুলো নিয়ে এসেছি। ওই জঘন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ! উনি দেশকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না! আমার দলের নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন! আমি প্রতীককে ফোন করেছিলাম। ওরা হার্ড ডিস্ক, ফোন সব নিয়ে নিচ্ছিল।’’ এরপর আইপ্যাকের অফিস থেকে বেরিয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘‘ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করেছে। আমাদের কাগজ, তথ্য সব লুট করেছে। লড়াই করার সাহস হচ্ছে না, এখন লুট করতে নেমেছে। হার্ড ডিস্ক, অর্থনৈতক কাগজ, পার্টির কাগজ নিয়ে নিয়েছে। বিজেপির মতো এত বড় ডাকাত দেখনি।’’ গতকাল বিকেল চারটে থেকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, ব্লকে ব্লকে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন মমতা। আজ শহরে মিছিল করবেন মমতা। অন্যদিকে, দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের সাংসদেরা। মহিলা ডেরেক পর্যন্ত রেহাই দেওয়া হয়নি। টেনে হিঁচড়ে তোলা হয় পুলিশের গাড়িতে।

এখনও পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আটকে রাখা হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের। এগারোটা নাগাদ তাঁদের ছাড়া হবে বললেও, এখনও ছাড়া হয়নি বলেই খবর। শুক্রবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানা থেকেই ফেসবুক লাইভ করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শতাব্দী রায়, প্রতিমা মণ্ডল, শর্মিলা সরকার, বাপি হালদার, সাকেত গোখলে, কীর্তি আজাদরা। লাইভে মহুয়া বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ দেখেছে কীভাবে শাহের নির্লজ্জ পুলিশ সাত-আট বছরের পুরনো কয়লা কেলেঙ্কারিকে সামনে রেখে, ইডিকে প্রতীক জৈন ও আইপ্যাকের অফিসে ঢুকিয়েছে। তৃণমূলের রাজনৈতিক তথ্য, নির্বাচনী তথ্য, সমীক্ষা, প্রার্থিতালিকা চুরি করার জন্য ইডিকে পাঠানো হয়েছিল। কয়লা কেলেঙ্কারির কিছু থাকলে সাত বছর ধরে কি তারা ঘুমোচ্ছিল? সামনে ভোট, এখন ইডি জেগে উঠল? সাত বছরের তথ্য কি এখন প্রতীকের কম্পিউটার বা ফাইলে পাওয়া যাবে?’’

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ফলো করুন :

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen