উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ, বাকি অভিযুক্তদের আর্জি মঞ্জুর সুপ্রিম কোর্টে

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৩:১৫: শীর্ষ আদালতেও জামিন হল না দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (JNU) প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ (Umar Khalid) এবং শারজিল ইমামের (Sharjeel Imam)। দু’জনের আর্জিই খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে। তবে দিল্লি হিংসা মামলায় সোমবার অভিযুক্ত বাকি পাঁচজনের জামিন মঞ্জুর করেছে সর্বোচ্চ আদালত।
উমর ও শারজিলের জামিন খারিজ করে আদালত জানিয়েছে, ভারতীয় সংবিধানে ব্যক্তিস্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তবে তা জাতীয় নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলার উদ্বেগের উপরে নয়। গুলফিশা ফতিমা, মীরন হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ শাকিল খান এবং শাদাব আহমেদের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। আদালতের মতে, বাকি পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, উমর ও শারজিলের চেয়ে তা আলাদা। সকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ সমান হিসাবে দেখা ঠিক না।
শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, উমর এবং শারজিল অন্তত এক বছর পর ফের জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই মামলার সুরক্ষিত সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এখনও সম্পন্ন হয়নি। যদি এক বছরের আগেই তা শেষ হয়, তবে জামিনের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন উমর ও শারজিল। আদালত জানায়, দিল্লির হিংসা মামলায় উমর ও শারজিলের বিরুদ্ধে যা তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে, তাতে আদালত সন্তুষ্ট। পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রে তাঁদের যোগ থাকার ইঙ্গিতই মিলেছে। জামিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে সেই তথ্যপ্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। তাতে ৫৩ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই হিংসার ঘটনায় বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (UAPA) তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় ছ’বছর ধরে তাঁরা জেল খাটছেন। হিংসায় উমর ও শারজিলকে ষড়যন্ত্রকারী বলে দাবি করেছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। পরে তাঁরা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন।
সোমবার জামিনের আবেদনটি খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।