দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, সাগরদ্বীপের মুড়িগঙ্গা সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী

January 5, 2026 | 3 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:০০: দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হওয়ার পথে। গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে বহু বছরের দাবির অবসান ঘটিয়ে সোমবার মুড়িগঙ্গা সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং ৪.৭৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই চার লেনের সেতু তৈরি হলে গঙ্গাসাগরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।

সোমবার পৌষ সংক্রান্তির আগে গঙ্গাসাগর মেলার (Gangasagar Mela) প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সাগরদ্বীপে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মেলা প্রাঙ্গণের পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন তিনি। এরপর এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একাধিক প্রকল্পের সুবিধা বিতরণের পাশাপাশি বহু প্রতীক্ষিত এই সেতুর শিলান্যাস করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু মুখে বলি না। কাজে করে দেখাই। হাজারও প্রতিকূলতা রয়েছে এখানকার মানুষের। তাই এই সেতু নির্মাণ জরুরি ছিল।”

মুড়িগঙ্গা নদীর (Muriganga River) ওপর স্থায়ী সেতুর দাবি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে তীর্থযাত্রী, সবারই বহুদিনের। এই সেতু নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বারংবার ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন ছিল, উত্তরপ্রদেশের কুম্ভমেলা যদি ‘জাতীয় মেলা’র মর্যাদা ও আর্থিক সাহায্য পায়, তবে কোটি মানুষের সমাগম হওয়া গঙ্গাসাগর মেলা কেন বঞ্চিত থাকবে? দিল্লির তরফ থেকে ইতিবাচক সাড়া না মেলায় ২০২৩ সালে সাগরের মাটিতে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, “চাতক পাখির মতো অপেক্ষা নয়, সেতু বানাবে রাজ্যই।”

সেই প্রতিশ্রুতি মতোই রাজ্য সরকারের নিজস্ব উদ্যোগে শুরু হয় টেন্ডার ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া। যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক জট কাটিয়ে এদিন শিলান্যাসের মাধ্যমে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো।

বর্তমানে মুড়িগঙ্গা নদী পারাপারের জন্য ভেসেল পরিষেবাই একমাত্র ভরসা। জোয়ার-ভাটার খেলায় প্রায়শই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে সাগরদ্বীপ, যা তীর্থযাত্রী এবং স্থানীয়দের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই সেতু সম্পূর্ণ হলে যাতায়াত হবে দ্রুত ও সুরক্ষিত। শুধু তীর্থযাত্রী বা পর্যটন নয়, এই সেতু সাগরদ্বীপের সামগ্রিক অর্থনীতি ও স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ‘লাইফলাইন’ হয়ে উঠবে।

দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবশেষে সত্যি হওয়ার পথে। গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে বহু বছরের দাবির অবসান ঘটিয়ে সোমবার মুড়িগঙ্গা (Muri Ganga River) সেতুর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এবং ৪.৭৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই চার লেনের সেতু তৈরি হলে গঙ্গাসাগরের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। একইসঙ্গে পর্যটন ও প্রশাসনিক সুবিধার্থে তৈরি নতুন কটেজের নাম রাখলেন নবান্নের ধাঁচে- ‘গঙ্গান্ন’ (Gangannya)। উন্নয়নের বার্তার পাশাপাশি এদিন ভোটার তালিকা ও আধার কার্ড ইস্যুতে কেন্দ্রকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

*মুড়িগঙ্গা সেতু ও উন্নয়নের জোয়ার*

সোমবার সাগরদ্বীপের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, বহুদিনের দাবি মেনে তৈরি হতে চলেছে মুড়িগঙ্গা সেতু। তিনি জানান, কাকদ্বীপের লট নম্বর ৮ এবং কচুবেড়িয়ার মধ্যে সংযোগকারী এই সেতুটি হবে প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪ লেনের। অত্যাধুনিক এই সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে এলএনটি (L&T)। প্রকল্পের জন্য খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১,৭০০ কোটি টাকা। মুখ্যমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেন, আগামী ২-৩ বছরের মধ্যেই এই সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, “আগে মানুষ বলত সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর (Gangasagar Mela) একবার। এখন মানুষ বলে সব তীর্থ একবার, গঙ্গাসাগর বারবার।” অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু মুখে বলি না। কাজে করে দেখাই। হাজারও প্রতিকূলতা রয়েছে এখানকার মানুষের। তাই এই সেতু নির্মাণ জরুরি ছিল।”

নতুন নাম ‘গঙ্গান্ন’

এদিন প্রশাসনিক ও পর্যটন সুবিধার্থে তৈরি নতুন গেস্ট হাউস ও কটেজগুলির নামকরণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নবান্ন, সৌজন্য, উপান্নর সঙ্গে মিল রেখে এই নতুন আবাসের নাম দেওয়া হলো ‘গঙ্গান্ন’। এছাড়াও ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ডরমেটরির উদ্বোধন করে তার নাম দেন ‘সাগরকন্যা’। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, কপিল মুনির আশ্রম সংস্কার থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট ও ৩টি হেলিপ্যাড তৈরি— সব ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

ভোটার তালিকা ইস্যুতে বড় বার্তা

এদিন উন্নয়নের খতিয়ান পেশের পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, আধার ও ভোটার কার্ড (Voter card) লিঙ্কের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বিবাহিত মহিলাদের পদবী পরিবর্তনের অজুহাতে নাম কাটার তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি। দিল্লির তরফ থেকে ইতিবাচক সাড়া না মেলায় ২০২৩ সালে সাগরের মাটিতে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, “চাতক পাখির মতো অপেক্ষা নয়, সেতু বানাবে রাজ্যই।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দরকার হলে আমি সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) গিয়ে অ্যাপিল করব। লইয়ার (Lawyer) হিসেবে নয়, দেশের সাধারণ নাগরিক হিসেবে পারমিশন চাইব এবং মানুষের হয়ে কথা বলব।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৫৪ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে এই কাজ করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলায় কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প হতে দেবেন না এবং এনআরসি বা আধার ইস্যুতে মানুষের হয়রানি বরদাস্ত করবেন না।

অন্যান্য প্রকল্প

এদিন প্রায় ২,৩২৪ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। সুন্দরবন (Sundarbans) ও সংলগ্ন জেলার জন্য রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং ‘আমার পাড়া আমার সমাধান’ প্রকল্পের আওতায় একাধিক কাজের সূচনা হয়। সভা মঞ্চ থেকেই লক্ষাধিক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সরাসরি পরিষেবা পৌঁছে দেন তিনি।

পরিশেষে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “দিল্লির নেতারা যতই ভয় দেখাক, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না। সারা জীবন মা-বোনেরা এই সুবিধা পাবেন।”

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen