সোনালি বিবির নবজাতকের নাম রাখলেন অভিষেক, বাঙালি নির্যাতনের অভিযোগে তুলোধোনা কেন্দ্রকে

January 6, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:৪৫: বীরভূমের রামপুরহাটে জনসভার পর হাসপাতালে গিয়ে সোনালী বিবির (Sonali Bibi) সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। শুনলেন এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ওপর কেন্দ্রীয় এজেন্সির কথিত অত্যাচারের রোমহর্ষক কাহিনী। শুধু দেখাই করলেন না, পরিবারের অনুরোধে সোনালী বিবির সদ্যোজাত সন্তানের নামকরণও করলেন তিনি। শিশুটির নাম রাখলেন ‘আপন’।

মঙ্গলবার রামপুরহাটের সভার শেষে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মেনেই হাসপাতালে যান অভিষেক। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, গত পরশু সোনালী বিবি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং গতকাল তিনি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সংক্রমণের আশঙ্কায় বাচ্চার খুব কাছে না গেলেও, সমস্ত মেডিকেল প্রোটোকল মেনে, মাস্ক ও গাউন পরে তিনি সোনালী বিবির সঙ্গে কথা বলেন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানান, সোনালী ও তাঁর মা তাঁকে শিশুটির নাম রাখার অনুরোধ করেন। অভিষেক প্রথমে তাঁদেরই নাম রাখার অনুরোধ জানালেও, পরিবারের নাছোড়বান্দা আবদারে তিনি শিশুটির নাম দেন ‘আপন’। এই নামের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে অভিষেক বলেন, ‘‘যেভাবে ওদের পর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এরা সকলেই আমাদের ‘আপন’। তাই বাচ্চাটার নাম রাখা হয়েছে আপন।’’ তিনি কথা দেন, কয়েক মাসের মধ্যে তিনি ফের সোনালীদের বাড়িতে গিয়ে শিশুটিকে দেখে আসবেন।

সোনালী বিবির মুখে তাঁর গত সাত-আট মাসের অভিজ্ঞতার কথা শুনে শিউরে ওঠেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘দিল্লি পুলিশ এবং BSF জোর করে একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। ফিজিক্যাল এবং মেন্টাল টর্চার করা হয়েছে। বনে-জঙ্গলে রাতের পর রাত কাটাতে হয়েছে, নদী পেরোতে হয়েছে। শেষে বাংলাদেশে গিয়েও জেল খাটতে হয়েছে।’’ অভিষেকের দাবি, সোনালী বিবির বাবার নাম ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার অপরাধে তাঁকে জোর করে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

সোনালী বিবির স্বামী দানিশ শেখ এখনও বাংলাদেশে আটকে রয়েছেন। এই প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে এবং কেন্দ্র সরকার সদুত্তর দিতে না পারায় সময় চেয়েছে। আগামী ১৯ তারিখ মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। দানিশকে আইনি পথে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এদিন হাসপাতাল চত্বর থেকেই বিজেপি ও কেন্দ্র সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। অমর্ত্য সেনকে নোটিশ পাঠানো থেকে শুরু করে তাঁর হেলিকপ্টার আসা আটকানো– সব বিষয় নিয়েই সরব হন তিনি। তিনি বলেন, ‘‘যারা বাংলার মানুষকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের ভুগতে হবে। এরা মায়ের চোখের জলের দাম বোঝে না।’’ অমর্ত্য সেনের প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘যারা দাঙ্গা করে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা যায় না।’’

এদিন সভা ও হাসপাতাল পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে অভিষেকের সফর ঘিরে টানটান উত্তেজনা ছিল। তাঁর হেলিকপ্টার আসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ মুহূর্তে ঝাড়খণ্ড সরকারের সহায়তায় তিনি রামপুরহাটে পৌঁছান। অভিষেক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘‘আমাকে যদি কেউ ষড়যন্ত্র করে আটকানোর চেষ্টা করে, আমি সেই ষড়যন্ত্র চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেব।’’

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen