ডবল ইঞ্জিন ওড়িশায় আবারও বাঙালি হেনস্থা! ‘বাংলাদেশি তকমা’ দিয়ে ‘পুশব্যাক’ শিশু, মহিলা-সহ গোটা পরিবারকে

January 8, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১১:২৫: ভিন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা করার ঘটনা বেড়েই চলেছে। বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রীতিমতো আতঙ্কের হয়ে উঠেছে ডবল ইঞ্জিন ওড়িশা। এবার এক মারাত্মক ঘটনা সামনে এল। ‘বাংলাদেশি তকমা’ দিয়ে ডবল ইঞ্জিন ওড়িশা থেকে গোটা পরিবারকে ‘পুশব্যাক’ করে দেওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

ঠিক যেন বীরভূমের সোনালি, সুইটি বা অসমের নলপুরের সাকিনা বিবির ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবার ঘটনাটি ঘটেছে বিজেপি শাসিত ওড়িশায়। বাংলা ভাষায় কথা বলায় অত্যাচার, ভাঙচুর বা হেনস্তা নয়। ‘বাংলাদেশি তকমা’ দিয়ে গোটা একটি পরিবারকে ‘পুশব্যাক’ করা হল ওপার বাংলায়। একদা দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ওই পরিবারের পূর্বপুরুষরা জীবিকার সন্ধানে ওড়িশায় চলে গিয়েছিলেন। গত ছয়-সাত দশক যাবৎ স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে ওড়িশায় থাকা ওই বাঙালি পরিবারকে বিগত বছরের ২৫ ডিসেম্বর নদীয়ার গেদে সীমান্ত দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বিএসএফ। পরিবারের কর্তা শেখ জব্বর সহ ১৪ জন সদস্যকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি ওড়িশার জগৎসিংপুর জেলার এরসামা থানার অম্বিকা গ্রামের বাসিন্দা ওই পরিবারকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করে পুলিশ। আধার, ভোটার, প্যান, ওড়িশা প্রশাসনের দেওয়া জন্ম শংসাপত্র, এমনকি ৭০ বছর আগের নামখানা ব্লকের জমির দলিল দেখানো সত্ত্বেও নিস্তার মেলেনি সংখ্যালঘু ওই পরিবারের। দেড়মাস জেলে রাখার পর শীতের রাতে মহিলা, শিশু ও নবতিপর বৃদ্ধা সহ গোটা পরিবারকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়। অভিযোগ, বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার আগেই কেড়ে নেওয়া হয় তাঁদের আধার ও ভোটার কার্ড। ২৬ ডিসেম্বর সকালে তাঁদের পাকড়াও করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডস (বিজিবি)। বাংলাদেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমের দাবি, ওই ১৪ জন ভারতীয় নিশ্চিত হওয়ার পর ২৮ ডিসেম্বর কুষ্ঠিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত পার করিয়ে তাঁদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি। তবে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই পরিবারের কোনও খবর নেই। ওই সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি আত্মীয়রা।

অন্যদিকে, ওড়িশায় লাগাতার বাঙালি হেনস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল। রাজ্য পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম জানান, ‘‘এখন পরিবারটি কোথায় জানা যাচ্ছে না। দাবি করা হচ্ছে, বিজিবি ফেরত পাঠিয়েছে। কিন্তু সেটা তো বলবে বিএসএফ! তারাও তো কিছু জানাচ্ছে না।’’ মৌসুনি পঞ্চায়েত এলাকায় থাকা ওই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen