ভোট বঙ্গে ভরসা নেই শুভেন্দু-শমীকদের? ভিন রাজ্যের নেতারাই ইঞ্জিন, বার্তা নাড্ডার

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৯:৫৩: রাজ্য বিজেপির অন্দরে ‘বহিরাগত’ বনাম ‘ভূমিপুত্র’ বিতর্ক ও অসন্তোষ ছিলই। সেই আবহেই দলের কৌশল স্পষ্ট করে দিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা (JP Nadda)। বঙ্গ সফরে এসে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, আসন্ন ছাব্বিশের নির্বাচনেও বঙ্গ বিজেপির রাশ থাকছে নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), অমিত শাহ (Amit Shah) এবং ভোটের কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিন রাজ্যের নেতাদের হাতেই। বৃহস্পতিবার বিধাননগরে আয়োজিত দলীয় বৈঠকে নাড্ডার বার্তা বাংলার নেতারা ‘গাড়ি’ হলে, ভিন রাজ্যের নেতারা কাজ করবেন ‘ইঞ্জিন’ হিসেবে।
বিজেপি সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৪৩টি সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দিয়ে ভিন রাজ্যের একাধিক নেতাকে বাংলায় পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মূল কাজ হবে জেলা সভাপতিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ভোটের প্রস্তুতি সারা। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে জেলা সভাপতিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ভিন রাজ্যের এই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাও। সেখানেই নাড্ডা স্পষ্ট করেন, সাংগঠনিক কাজে গতি আনতেই এই ‘ইঞ্জিন’ রূপী নেতাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে থেকে বেড়েছিল কেন্দ্রীয় নেতাদের অত্যধিক আনাগোনা। হিন্দি ভাষণে প্রচার বাংলার মানুষের মনে দাগ কাটতে ব্যর্থ হয়েছিল। সম্প্রতি এই ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, উত্তর ভারতের নেতাদের দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) ভোট করানো সম্ভব নয়, কারণ তাঁরা বাংলার মানুষের আবেগ বা অভিমান বোঝেন না। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অভিজিতের এই মন্তব্যে দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়লেও, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে নাড্ডা বুঝিয়ে দিলেন, কেন্দ্রীয় তদারকি থাকছেই।
তবে গত নির্বাচনের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ভিন রাজ্যের নেতাদের কার্যপদ্ধতিতে বড়সড় রদবদল এনেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, নাড্ডা ভিন রাজ্যের নেতাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁদের কাজ মঞ্চ আলো করে মালা পরা বা হিন্দিতে ভাষণ দেওয়া নয়। তাঁদের থাকতে হবে আড়ালে। লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকেই সংগঠনের কোথায় খামতি রয়েছে তা চিহ্নিত করতে হবে এবং জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে রিপোর্ট পাঠাতে হবে কেন্দ্রে।
নাড্ডা এদিনের বৈঠকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাঙালির ভাবাবেগে আঘাত লাগে এমন কোনও আচরণ বা বিতর্কিত মন্তব্য করা যাবে না। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “আপনারা স্রেফ সহযোগী। শুধু ভাষণ নয়, কাজ করুন। কোনও সভামঞ্চে গিয়ে মালা পরা যাবে না।”