“বিজেপি উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ নিয়ে আসুক, ভোকাট্টা করে দেব”, বাঁকুড়ায় চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

January 10, 2026 | 3 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:৩০: সামনেই বাংলায় ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন। এই আবহেই শনিবার বাঁকুড়ার শালতোড়ায় ‘রণসঙ্কল্প’ সভায় বিজেপিকে একহাত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। জঙ্গলমহলে দাঁড়িয়েই তিনি গেরুয়া শিবিরকে সরাসরি উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ নিয়ে তর্কের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন। পাশাপাশি, স্থানীয় পাথর খাদান ও ক্রাশার শিল্পের সমস্যা মিটিয়ে বিপুল কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও শোনা গেল তাঁর গলায়।

গত কয়েক বছরে জঙ্গলমহলে বিজেপির (BJP) উত্থান তৃণমূলের কাছে চিন্তার কারণ ছিল। তবে এদিন অভিষেক স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, হাওয়া এখন ঘুরছে। সভার শুরুতেই শালতোড়ার দুই বিজেপি নেতা তৃণমূলে যোগদান করেন, যা স্থানীয় স্তরে ঘাসফুল শিবিরের মনোবল বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিজেপিকে খোলা চ্যালেঞ্জ

এদিন ভাষণের আগাগোড়াই আক্রমণাত্মক ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায়, আর মোদী সরকার ১২ বছর। বাঁকুড়ার জন্য কে কী করেছে, তার হিসাব হোক।” বিজেপি নেতাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, “বাঁকুড়া বা বিষ্ণুপুরের যে কোনও একটা মাঠ বেছে নিন। এক ঘণ্টা সময় দিন। একদিকে আমি থাকব আমাদের সরকারের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে, অন্যদিকে বিজেপির নেতারা আসুক মোদী সরকারের খতিয়ান নিয়ে। ভোকাট্টা করে মাঠের বাইরে বের করে দিতে না পারলে মানুষের সামনে মুখ দেখাব না।” সভায় তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “কোনও ভদ্রলোক বিজেপি করে না। যত মাতাল, পাতাখোর, চোর, চিটিংবাজ, সব বিজেপিতে।”

স্থানীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান

শালতোড়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা পাথর খাদান ও ক্রাশার শিল্প নিয়ে এদিন বড় ঘোষণা করেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় খনি মন্ত্রকের ছাড়পত্র ও আইনি জটিলতায় বহু খাদান বন্ধ হয়ে আছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, “গত দু’মাস ধরে আমি এই জটিলতা কাটানোর কাজ করেছি। আজ সকালেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। ৩১ মার্চের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া মেনে সমস্ত খাদান ও ক্রাশার চালু করা হবে। এর ফলে আগামী দিনে এই এলাকায় অন্তত ২৫ হাজার মানুষের নতুন করে কর্মসংস্থান হবে। কথা দিয়ে কথা রাখার নামই তৃণমূল কংগ্রেস।”

সংস্কৃতি ও বঞ্চনা নিয়ে তোপ

বাংলার মনীষীদের অপমান এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়েও এদিন সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, “যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, রবীন্দ্রনাথকে চেনে না, বিবেকানন্দকে বামপন্থী তকমা দেয়, তারা আর যাই হোক বাঙালির বন্ধু হতে পারে না।” কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “বাংলার ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া আটকে রেখেছে কেন্দ্র। বাঁকুড়ার জন্যই আটকে আছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা পেলে জেলার চেহারাই বদলে যেত।”

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও নারী সুরক্ষা

বিজেপি নেতাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করার হুমকির কড়া জবাব দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আছে, পৃথিবীর কারও ক্ষমতা নেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করার। বিজেপি জিতলে মায়েদের অধিকার কাড়বে, আর তৃণমূল জিতলে সেই অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।”

 

*এসআইআর-এ মৃত্যু*

 

তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর নামে বাঙালির উপর অন্যায় অত্যাচার চলছে। তাঁর দাবি, গত দু’মাসে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বীরভূমে এসআইআর-এর নোটিস পেয়ে শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে কাঞ্চন মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অভিষেক বলেন, “বাঙালিকে শুধু ভাতে মারতে চায়নি, প্রাণেও মেরেছে বিজেপি। যারা আমাদের প্রাণে মেরেছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে শিক্ষা দিতে হবে।”

 

*লক্ষ্য ১২-০*

গত লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে তৃণমূল ভালো ফল করেছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেকের হুঙ্কার, “একদিকে বিষ্ণুপুরে ছয় মারতে হবে, অন্যদিকে বাঁকুড়াতেও ছয় মারতে হবে। আগামী বিধানসভায় এই জেলার ১২টি আসনই তৃণমূলকে জিতিয়ে ১২-০ করতে হবে।”সভায় অভিষেক বলেন, “তৃণমূল জিতলে মানুষের অধিকার ও ভাত মিলবে, বিজেপি জিতলে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ও ‘মন কি বাত’ ছাড়া কিছুই মিলবে না।” বাঁকুড়া ও বিষ্ণুপুরে তৃণমূলকে ১২-০ করার ডাক দেন তিনি। অভিষেক বিজেপি নেতৃত্বের সাংস্কৃতিক অজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অমিত শাহ রবীন্দ্রনাথ সান্যাল বলেছেন। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল বিজেপি কর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেছেন।”

সব মিলিয়ে, শালতোড়ার সভা থেকে একদিকে যেমন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন অভিষেক, তেমনই জঙ্গলমহলে হৃত জমি পুনরুদ্ধারে বিজেপি বিরোধী সুর আরও চড়ালেন। ছাব্বিশের ভোটের আগে বাঁকুড়ার মাটি যে ফের গরম হচ্ছে, তা এদিনের জনসমাবেশেই স্পষ্ট।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen