মৌলবাদীদের ফতোয়ায় বাংলাদেশে ‘হারাম’ পৌষ পার্বণ! উৎসব বন্ধের হুমকিতে আতঙ্কে সংখ্যালঘুরা

January 10, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:০০: বদলে যাওয়া বাংলাদেশে (Bangladesh) এবার কোপ পড়ল আবহমান বাংলার সংস্কৃতিতে। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম ‘মকর সংক্রান্তি’ বা ‘পৌষ পার্বণ’-কে এবার ‘ইসলাম বিরোধী’ বা ‘হারাম’ তকমা দিল কট্টরপন্থীরা। মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া এই নয়া ফতোয়ায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই উৎসব পালন করা যাবে না। মৌলবাদীদের এই হুমকিতে ওপার বাংলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক।

বাঙালির ঘরে ঘরে পৌষ সংক্রান্তি মানেই নবান্নের উৎসব, নতুন ধান আর খেজুর গুড়ের গন্ধে পিঠেপুলি খাওয়ার আনন্দ। এতদিন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দুই বাংলাতেই সমান আবেগে পালিত হতো এই কৃষিভিত্তিক উৎসব। কিন্তু অভিযোগ, ইউনুসের নতুন বাংলাদেশে সেই সার্বজনীন আনন্দ এখন নিষিদ্ধ হতে চলেছে। এবছর বিভিন্ন ইসলামিক কট্টরপন্থী সংগঠনের তরফে প্রচার চালানো হচ্ছে যে, মকর সংক্রান্তি ইসলামের দৃষ্টিতে ‘হারাম’।

সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে লিফলেট বিলি এবং পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। সেখানে হিন্দুদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে, নিজেদের এলাকায় যেন কোনওরকম মকর সংক্রান্তির অনুষ্ঠান বা পিঠেপুলির আয়োজন না করা হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক আঘাত আসছে। ইতিপূর্বে প্রশাসনিক স্তরে সরস্বতী পুজোর ছুটি বাতিল করা হয়েছে, এমনকি ‘অমর একুশে’র অনুষ্ঠান পালন নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। এবার পৌষ পার্বণ বন্ধের ফতোয়া সেই পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করছেন অনেকে। অভিযোগ উঠছে, মৌলবাদীদের শিখণ্ডী করে আসলে ইউনুস সরকারই ধীরে ধীরে দেশে কট্টরপন্থা কায়েম করতে চাইছে।

২০২৪ সালে পট পরিবর্তনের পর থেকেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা তলানিতে ঠেকেছে। গত ডিসেম্বর মাস থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৭ জন হিন্দুকে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। বেছে বেছে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার এবং এখন উৎসব পালনে নিষেধাজ্ঞা। সব মিলিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen