SIR in Bengal: ‘অমানবিক’, অমর্ত্য সেনকে হেনস্থা ও ৭৭ মৃত্যু নিয়ে কমিশনকে কড়া চিঠি মমতার
নিউজ, ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:২৩: SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) লেখা এক কড়া চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হেনস্থা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে তিনি ‘যান্ত্রিক’, ‘সংবেদনহীন’ এবং ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের (Amartya Sen) মতো নবতিপর এবং বিশ্ববরেণ্য বুদ্ধিজীবীকেও তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সামনে হাজির হতে বলা হয়েছে। একে তিনি “চরম লজ্জাজনক” বলে বর্ণনা করেছেন। শুধু তাই নয়, বিশিষ্ট কবি জয় গোস্বামী, জনপ্রিয় অভিনেতা ও সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব), আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মহম্মদ শামি এবং ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের মহারাজের মতো ব্যক্তিত্বদেরও এই প্রক্রিয়ার শিকার হতে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, “এটি কি কমিশনের নিছক ঔদ্ধত্য নয়?”
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কমিশনের এই অপরিকল্পিত কর্মসূচির ফলে সৃষ্ট আতঙ্ক ও চাপে রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ৪ জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এবং ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর যে সব মহিলারা শ্বশুরবাড়ি গিয়ে পদবী পরিবর্তন করেছেন, তাঁদেরও শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “এটি কেবল সামাজিক সংবেদনশীলতার অভাবই নয়, বরং নারী ও প্রকৃত ভোটারদের জন্য চরম অপমানজনক।”
নামের সামান্য বানান ভুলের জন্য (যেমন- ‘Mamta’ বনাম ‘Mamata’ বা ‘Kumar’ বনাম ‘Kumer’) সাধারণ নাগরিকদের তলব করা হচ্ছে। এআই (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত এই ছোটখাটো ত্রুটিগুলির জন্য দিনমজুরদের কাজ কামাই করে শুনানিতে যেতে হচ্ছে, যা তাঁদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কমিশনের নিযুক্ত পর্যবেক্ষকরা সাধারণ মানুষকে “দেশদ্রোহী” তকমা দিচ্ছেন এবং দুর্ব্যবহার করছেন। তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করাই যেন এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু বিধানসভা কেন্দ্রকে টার্গেট করে এই কাজ করা হচ্ছে।
চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, নির্বাচন কমিশন শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়ে অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। গঙ্গাসাগর মেলার সময় পুলিশের ওপর বাড়তি চাপের কথাও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।