ক্যানসার নিরাময়ে গো-গবেষণা, কোটি কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ ডবল ইঞ্জিন মধ্যপ্রদেশে

January 10, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:০০: ক্যানসার নিরাময়ের লক্ষ্যে শুরু হয়েছিল গবেষণা, হাতিয়ার ছিল গোবর, গোমূত্র এবং দুধ-সহ পঞ্চগব্য। কিন্তু এক দশক পেরিয়ে সেই গবেষণাগার থেকে মারণ রোগের ওষুধ নয়, বরং বেরিয়ে এল কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির কঙ্কাল। মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে পঞ্চগব্য নিয়ে গবেষণার নামে সরকারি তহবিলের প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা নয়ছয় করার গুরুতর অভিযোগ উঠল। গবেষণার কাঁচামাল কেনা থেকে শুরু করে বিলাসবহুল গাড়ি, সব ক্ষেত্রেই নিয়ম ভেঙে বিপুল আর্থিক অনিয়মের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। অতিরিক্ত জেলাশাসকের জমা দেওয়া রিপোর্টে এই দুর্নীতির চিত্র সামনে আসতেই এখন তোলপাড় মধ্যপ্রদেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালে। সেই সময় মধ্যপ্রদেশে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের উদ্যোগে জব্বলপুরের নানাজি দেশমুখ পশু বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অভিনব গবেষণা প্রকল্পটি শুরু হয়। উদ্দেশ্য ছিল পঞ্চগব্য (দুধ, দই, ঘি, গোবর ও গোমূত্র) ব্যবহার করে ক্যানসারের মতো মারণ রোগের ওষুধ আবিষ্কার করা। কিন্তু দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর গবেষণার সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তো ওঠেইনি, বরং এখন সামনে এসেছে ফান্ডের অপব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র।

সম্প্রতি এই প্রকল্পের খরচ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় অতিরিক্ত জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। সেই তদন্তেই উঠে এসেছে একাধিক অসংগতি।

২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গবেষণার কাঁচামাল হিসেবে গোবর, গোমূত্র, মাটির পাত্র এবং কিছু সাধারণ যন্ত্রপাতি কেনা বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা। তদন্তকারীদের দাবি, বাজারে এই সামগ্রীগুলোর প্রকৃত মূল্য ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ, প্রায় ১০ গুণ বেশি খরচ দেখানো হয়েছে।

প্রকল্পের মূল বাজেটে অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়েছে।

গবেষণার প্রয়োজনে প্রায় ২৩ থেকে ২৪ বার বিমান ভ্রমণের খরচ দেখানো হয়েছে, যার যৌক্তিকতা নিয়ে তদন্তকারী দল প্রশ্ন তুলেছে।

কৃষকদের প্রশিক্ষণের নামে মোটা টাকা খরচ দেখানো হলেও, তার সপক্ষে কোনও বিশ্বাসযোগ্য নথিপত্র বা বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়নি।

অতিরিক্ত জেলাশাসকের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই তাদের রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে জমা দিয়েছে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen