মঙ্গলে শুরু জয়দেব-কেঁদুলির মেলা, কী কী বিশেষ ব্যবস্থা থাকছে?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৩:০০: মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী জয়দেব-কেঁদুলির মেলা। মেলা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ করেছে পুলিশ-প্রশাসন। মকর সংক্রান্তির দিন পুণ্যস্নানে যাতে কোনও অঘটন না-ঘটে সেজন্য একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুসারে, বিগত বছর জয়দেব-কেঁদুলির মেলায় প্রায় সাড়ে আট লক্ষ মানুষ এসেছিলেন। মনে করা হচ্ছে, চলতি বছর মেলায় ভিড় আরও বাড়বে। চারদিনের বদলে এবার পাঁচদিন ধরে চলবে মেলা।
পুণ্যস্নানের জন্য এবারও হিংলো ড্যাম থেকে প্রায় দু’হাজার কিউসেক জল ছাড়া হবে। ফলে আগত পুণ্যার্থীরা নির্বিঘ্নেই স্নান করতে পারবেন। একাধিক ঘাটের কাছে মহিলাদের পোশাক বদলের জন্যও ব্যবস্থা থাকবে। স্নান করতে আসা পুণ্যার্থীদের দুর্ঘটনা এড়াতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন থাকছে। ডুবুরিও থাকবে।
মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে থাকছে সন্ধ্যারতি। ১৩ ও ১৪ তারিখ আরতি হবে। ১৭ জানুয়ারি মেলায় জয়দেব স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার অন্যতম আকর্ষণ কীর্তন ও বাউল-ফকিরদের গান। বাউল এবং ফকির সাধনার এক মিলনক্ষেত্র হয়ে ওঠে এই মেলা। সূত্রের খবর, এ বছর মেলায় প্রায় ৫০০ বাউল ফকিরের আখড়া থাকছে। প্রায় ২০০০ অস্থায়ী দোকান বসছে মেলায়।
চলতি বছর ‘নির্মল জয়দেব মেলা’ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। মেলায় প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। মেলায় ভেন্ডিং মেশিন বসানো হচ্ছে। মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে পরিবেশবান্ধব কাপড়ের ব্যাগ মিলবে সেখান থেকে। মেলায় প্রতিনিয়ত সাফাইয়ের জন্য শতাধিক সাফাইকর্মীও রাখা হচ্ছে। উন্মুক্ত শৌচকর্ম রোধে একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। বহু স্থায়ী শৌচালয় থাকা সত্ত্বেও নতুন করে ২৫০টি উন্নতমানের অস্থায়ী বিজ্ঞানসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিড় সামলাতে পুলিশের তরফেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মেলায় কমবেশি আড়াই হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকবেন। ড্রপগেট, পুলিশি সহায়তা কেন্দ্র, ওয়াচ টাওয়ারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মেলায় নজরদারির জন্য প্রায় ১৫০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।