SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম ধাক্কা খেল কমিশন! এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলবের নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:৪৫: SIR বিতর্ক এবার সুপ্রিম কোর্টে। ১ সপ্তাহের মধ্যে কমিশনকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গে SIR-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien) এবং দোলা সেনের করা আবেদনের শুনানিতে সোমবার বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ কমিশনকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিন আদালতে ডেরেক ও’ব্রায়েনের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল (Kapil Sibal)। শুনানি চলাকালীন তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অদ্ভুত নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি জানান, বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে নির্দেশাবলি পাঠানো হচ্ছে, যার কোনও সরকারি লিখিত নথি বা ‘অডিট ট্রেল’ থাকছে না। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশন প্রবর্তিত ‘Logical discrepancy’ বা তথ্যের অসঙ্গতি সংক্রান্ত ক্যাটাগরি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কপিল সিব্বল। তিনি আদালতে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ কোটি ৩২ লক্ষ ভোটারকে এই অসঙ্গতির তালিকায় ফেলা হয়েছে।” অভিযোগ, নামের বানান ভুল, বয়সের সামান্য গরমিল বা বাবা-মায়ের নামের তথ্যে ত্রুটির অজুহাতে অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ভোটারদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে কোনও লিখিত নির্দেশিকা ছাড়াই ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য আধা-বিচারবিভাগীয় (Quasi-judicial) শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। তৃণমূলের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ার ফলে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
অন্যদিকে, সাংসদ দোলা সেন (Dola Sen) তাঁর আবেদনে কমিশনের এই প্রক্রিয়াকে ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন দোলা সেনের আবেদনের জবাবে এর আগেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে যে পিটিশনে করা দাবিগুলি সঠিক নয়।
এদিন কমিশনের আইনজীবী জবাব দাখিলের জন্য আদালতের কাছে দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বেঞ্চ কমিশনকে এক সপ্তাহের সময় দিয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দুই সাংসদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কমিশনকে একটি সাধারণ জবাব (Common Response) দাখিল করতে হবে। আগামী সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।