কাজের খতিয়ান নিয়ে রাস্তায় নামুন, BJP-র মিথ্যার ন্যারেটিভ ভাঙতে ‘ডিজিটাল যোদ্ধা’দের বার্তা অভিষেকের
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:২২: আর কয়েকমাস বাকি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের। তার আগে সোশ্যাল মিডিয়া এবং জনসংযোগে আরও জোর দিতে দলীয় কর্মীদের বিশেষ নির্দেশ দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’র (Ami Banglar Digital Yoddha) কনক্লেভ থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কেবল ভার্চুয়াল জগত নয়, রাজ্য সরকারের কাজের পরিসংখ্যান নিয়ে এবার রাস্তায় নেমে প্রচার চালাতে হবে।
এদিন ডিজিটাল যোদ্ধাদের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে অভিষেক অভিনব উপমা ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় লড়ছে তারা এয়ারফোর্স। পার্লামেন্টে যারা লড়ছে তারা নেভি, আর যারা লোকাল নেতা-কর্মী তারা আর্মি।” দলের এই তিন স্তরের লড়াইয়ের গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন, যারা ভালো কাজ করবেন, দল অনুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে তাদের স্বীকৃতি দেবে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে অভিষেক পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, “২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে মোদী সরকার কেবল একটি বিধানসভারই ৬৮০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে।” বিজেপি নেতারা যে সব মন্তব্য করছেন, সেগুলো আসলে হুমকি, সেই গুলো তুলে ধরার কথা বলেন তিনি। কেন্দ্র মানুষের টাকা বন্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর যুক্তি, রাজ্যে তৃণমূল ১৫ বছর ক্ষমতায় রয়েছে, আর কেন্দ্রে বিজেপি ১১ বছর। রাজ্যের কাছে কাজের খতিয়ান থাকলেও কেন্দ্রের রিপোর্ট কার্ড কোথায়, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর এবং অপপ্রচার রুখতে কর্মীদের সতর্ক করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। আর জি কর কাণ্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “তদন্তের আগেই সংবাদ মাধ্যমের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একতরফা মিথ্যার ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের ভিডিও চালিয়ে দাবি করা হয়েছে তা মালদা বা মুর্শিদাবাদের ঘটনা।” বিজেপির এই ‘অভিসন্ধি’ ও ‘ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল’ ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার ডাক দেন তিনি।
বিজেপির আচরণের তীব্র সমালোচনা করে অভিষেক একটি নির্দিষ্ট ঘটনার প্রসঙ্গও টানেন। তিনি বলেন, “যে দল ৭০টা আসন পেয়ে একজন সাধারণ চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে উত্তমমধ্যম মারে, তারা ক্ষমতায় আসলে কী করতে পারে, সেই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরুন।”
দলের কর্মীদের চাঙ্গা করতে অভিষেকের দাবি, “তৃণমূলই একমাত্র দল যারা ভারতের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বিজেপিকে ল্যাজেগোবড়ে করেছে এবং বারে বারে হারিয়েছে।” আগামী দিনে সত্য ঘটনা এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়াই যে ডিজিটাল যোদ্ধাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, এদিন তা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন অভিষেক।
আগামী নির্বাচনে দলের টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আগের বার ২১৪ বলেছিলাম, এবার ২৫০ করতে হবে।” কনক্লেভের মঞ্চ থেকে তিনি বলেন, “স্বামীজির আদর্শে চলার অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে। যিনি হিন্দু ধর্মকে বিশ্বের দরবারে সম্মানিত করেছিলেন, সেই ধর্মকেই বিজেপি কলঙ্কিত করছে।” তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছোট করার চেষ্টায় বিজেপি মা সারদার প্রতি ব্যঙ্গ করছে। তিনি আরও বলেন, “বিজেপির অর্থবল রয়েছে, কিন্তু তৃণমূলের শক্তি জনবল।” আগামী ১০০ দিন সোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, “তৃণমূলকে যত চমকানো হবে, তৃণমূল তত শক্তিশালী হবে।”
বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝার জন্য সিপিএমের ইতিহাস পড়ুন। ৩৪ বছরের জমাট বাঁধা শাসন ভেঙে দিয়েছেন তিনি। বোম-বন্দুকের কাছে মাথা নত করেননি, তাহলে ইডি-সিবিআইয়ের কাছে মাথা নত করবেন?” বিজেপিকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক দাবি করেন, বাংলার মানুষ তা জানে। লক্ষীর ভান্ডার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিজেপি বলছে বন্ধ করবে, আবার ক্ষমতায় এলে দ্বিগুণ করবে। যারা বন্ধ করার কথা বলছে তারাই আবার চার্জশিট দিচ্ছে।”
কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, সংবাদমাধ্যম প্রচার না করলে দলীয় কর্মীদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, “ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব-সব জায়গায় দলের জয়ধ্বনি তুলুন। সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরুন।”
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের রণকৌশল স্পষ্ট করে অভিষেক জানান, “আমরা মিথ্যার উপর দাঁড়ানো দল নই। আমরা আদর্শের উপর দাঁড়িয়ে লড়াই করি। বিজেপি রটনাকে ঘটনা বানায়, আমরা তা করব না। তারা বাংলাকে কলুষিত করছে, আমাদের দায়িত্ব তা প্রতিহত করা। বিজেপি কিছু পোস্ট করলে সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করে পালটা দিন।”
কলকাতায় আইপ্যাকের অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযান নিয়ে ফের সরব হন তিনি। সোমবার ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচিতে তিনি অভিযোগ করেন, “ইডি কোনও তদন্তে নয়, তথ্য চুরি করতে এসেছিল।”
অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, কয়লা পাচার মামলায় গত তিন বছরে কোনও সমন জারি হয়নি, অথচ ভোটের আগে হঠাৎ অভিযান কেন? পাশাপাশি তিনি জানতে চান, আইপ্যাকের তিনজন ডিরেক্টর থাকা সত্ত্বেও কেন শুধু কলকাতার অফিস ও ডিরেক্টরের বাড়িতেই তল্লাশি চালানো হল, দিল্লি বা চেন্নাইয়ে নয়। তাঁর দাবি, এ অভিযান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।