ইডির সুপ্রিম যাত্রার পরেই I-PAC অভিযান নিয়ে মুখ খুললেন পুলিশ কমিশনার, কী বললেন মনোজ বর্মা?
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:৫০: আইপ্যাক (I-PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়ি ও অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-র অভিযান করেছিল। চার দিন পর অবশেষে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP) মনোজ বর্মা (Manoj Verma)। ইডি সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হওয়ার পরেই সোমবার বিকেলে লালবাজারে সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া দিলেন তিনি। তবে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে খুব বেশি মন্তব্য করতে চাননি সিপি।
গত বৃহস্পতিবার আইপ্যাক প্রধানের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও অফিসে হানা দেয় ইডি। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মাও। তল্লাশির ঘটনায় ইডির বিরুদ্ধে থানায় জোড়া অভিযোগ দায়ের হয়েছে, পাল্টা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির লিখিত বক্তব্যে পুলিশ কমিশনারের নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর।
সোমবার বিকেলে পথনিরাপত্তা সচেতনতায় হাফ ম্যারাথনের জার্সি প্রকাশের জন্য লালবাজারে (Lalbazar) একটি সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে অভিনেতা তথা সাংসদ দেব (Dev) উপস্থিত থাকলেও, সংবাদমাধ্যমের মূল ফোকাস ছিল আইপ্যাক অভিযান প্রসঙ্গে সিপির মন্তব্যের দিকে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিপি মনোজ বর্মা জানান, “আমরা দু’টি কেস রুজু করেছি। দু’টি কেসেই তদন্ত চলছে। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আছে এবং আমাদের রিপোর্ট দিতে হবে। তাই এর বাইরে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়। হয়ত পরে অন্য কোনও দিন আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে চাইব।”
সুপ্রিম কোর্টে ইডির দায়ের করা মামলায় পুলিশের ভূমিকা বোঝাতে ‘চুরি’ বা ‘ডাকাতি’র মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমি পড়িইনি কী লেখা আছে। আমি জানি না। শুধু শোনা কথার ওপর মন্তব্য করা উচিত হবে না। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এর ওপরে এই মুহূর্তে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়।”
সেদিন কেন ডিসি (সাউথ)-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল বা তদন্তের স্বার্থে কাউকে নোটিস পাঠানো হয়েছে কি না- এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তরেও সিপি আইনি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, পুলিশ আইন অনুযায়ী যা যা করণীয়, তা করছে।
উল্লেখ্য, এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে আইপ্যাক প্রসঙ্গ ছাড়াও শহরের ট্র্যাফিক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ কমিশনার জানান, গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী কলকাতায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে (১৫৪ জন)। পথনিরাপত্তা বাড়াতে কলকাতা পুলিশের উদ্যোগের প্রশংসাও করেন অভিনেতা দেব।