কোতোয়ালিতে ফের চমক! মৌসমের প্রত্যাবর্তনের মাঝেই কি লিজুর অভিষেক? জল্পনা তুঙ্গে

January 12, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২১:০০: দীর্ঘ জল্পনার অবসান কি তবে আসন্ন? মালদহের রাজনীতিতে ফের চমক দিতে চলেছে কোতোয়ালির গনি খান পরিবার। জেলা রাজনৈতিক মহলের জোর চর্চা, মৌসম নূরের (Mausam Noor) পর এবার সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামতে চলেছেন তাঁর দিদি তথা সাংসদ-পত্নী লিজু ওরফে সৈয়দা সালেহা নূর (syeda saleha noor)। কংগ্রেসের অন্দরমহলের খবর, সব ঠিক থাকলে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মালদহের (Malda) সুজাপুর কেন্দ্র থেকে ‘হাত’ চিহ্নে প্রার্থী হতে পারেন তিনি। তবে এই মুহূর্তে তাঁর নির্বাচনী লড়াইয়ের পথে প্রধান কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘নাগরিকত্ব’।

প্রয়াত গনি খান চৌধুরীর পরিবারের সদস্য তথা মালদহ দক্ষিণের বর্তমান কংগ্রেস সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর (Isha Khan Chaudhari) সহধর্মিনী লিজু এখনও কানাডার নাগরিক। দীর্ঘ দিন ধরে কোতোয়ালি পরিবারের বউ হয়ে থাকলেও তিনি ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এবার সেই সমস্যা মেটাতে তৎপর হয়েছে কংগ্রেস (Congress) শিবির।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, লিজুর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ফাইলপত্র তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি মৌসম নূরের ‘ঘর ওয়াপসি’ বা কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তনের জল্পনার সময় লিজুও দিল্লিতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই তড়িঘড়ি নাগরিকত্ব বদলের আইনি প্রক্রিয়া ও বকেয়া কাজকর্ম সারা হয়েছে বলে খবর। উদ্দেশ্য একটাই, দ্রুত ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা, যাতে সুজাপুর থেকে তাঁর প্রার্থী হওয়া আটকানো না যায়।

কিন্তু লিজু যদি সুজাপুর আসনে প্রার্থী হন, তবে মৌসম নূর লড়বেন কোথা থেকে? এই প্রশ্নেই এখন সরগরম জেলার রাজনীতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গনি-পরিবারের দুর্গ বলে পরিচিত সুজাপুর লিজুকে ছেড়ে দেওয়া হলে, মৌসম নূরকে দেখা যেতে পারে মালদহ উত্তরের রতুয়া অথবা মালতিপুর আসনে।

এ বিষয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ ইশা খান চৌধুরী বলেন, “লিজুর নাগরিকত্বের আবেদন সংক্রান্ত ফাইলপত্র তৈরির কাজ সেরে ফেলা হয়েছে। এখন লিজুর সিদ্ধান্তের উপর বিষয়টি নির্ভর করছে। লিজু চাইলেই রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন। এতে আমার কোনও আপত্তি নেই।” পাশাপাশি মৌসম নূরের আসন প্রসঙ্গে তিনি জানান, “জেলার একাধিক এলাকা থেকেই দলীয় কর্মীরা মৌসমকে তাঁদের বিধানসভা আসনে চাইছেন। খুব শীঘ্রই আমরা জেলা কমিটির বৈঠকে বসব এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা দিল্লিতে হাইকম্যান্ডের কাছে পাঠিয়ে দেব।”

উল্লেখ্য, গনি খান চৌধুরীর মৃত্যুর পর কোতোয়ালি পরিবারের অন্দরে রাজনীতির ব্যাটন হাতবদল হয়েছে বারবার। গনি খানের বোন রুবি নূর সুজাপুর (Sujapur) থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন। রুবির মৃত্যুর পর তাঁর মেয়ে মৌসম, গনি খানের দাদা আবু নাসের খান (লেবু), ভাই ডালু খান (Abu Hasem Khan Choudhury) এবং ডালু-পুত্র ইশা খান রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। এমনকি ভাগনি শেহনাজ কাদরিও রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন। এবার সেই তালিকায় সংযোজিত হতে চলেছে বিদেশ-ফেরত লিজুর নাম। এখন দেখার, কানাডার নাগরিকত্ব ছেড়ে লিজু কবে পাকাপাকিভাবে ভারতীয় রাজনীতির ‘পিচে’ ব্যাটিং শুরু করেন।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen