শুরু গঙ্গাসাগর মেলা, পবিত্র মকরস্নানের প্রাক্কালে তীর্থযাত্রীদের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১১:১২: মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে ভিড় জমেছে গঙ্গাসাগর। ঐতিহ্যবাহী গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষ্যে সাগরতট যেন মিনি ভারতবর্ষ হয়ে ওঠে। পবিত্র মকরস্নানের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই পুণ্যার্থীদের ভিড় জমতে আরম্ভ করেছে। রাজ্য সরকারের সাহায্যে এই মেলা আয়োজিত হয়। আগত তীর্থযাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গাসাগর মেলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা ও উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আশা রাখি, এই গুরুত্বপূর্ণ মেলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিদারুণ অবহেলা ও অমনোযোগের একদিন অবসান ঘটবে।’’
সমাজ মাধ্যমের পাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখছেন, ‘‘ঐতিহ্যশালী ও ঐতিহাসিক গঙ্গাসাগর মেলায় আগত দেশের লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। প্রার্থনা করি, সকল তীর্থযাত্রীর যাত্রা শুভ হোক এবং সকলের মনোবাসনা পূর্ণ হোক।’’ পূর্ববর্তী সরকারের আমলে থাকা ‘তীর্থ কর’-র প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। মমতা লিখছনে, ‘‘আমাদের সরকার গঙ্গাসাগর মেলাকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। আগের সরকার এখানে তীর্থযাত্রীদের উপর যে ‘তীর্থ কর’ চাপিয়ে রেখেছিল, আমরা এসেই তা তুলে দিই। মেলায় যেতে এখন আর কোনও কর দিতে হয় না।’’
পুণ্যার্থীদের জন্য কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তাও জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। মমতার কথায়, ‘‘পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কপিলমুনির আশ্রম-সহ মেলা প্রাঙ্গণ সাজানো থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বাস-ভেসেল-লঞ্চ-জেটি নদীপথ ড্রেজিং, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা, আলোকসজ্জা, পানীয় জলের ব্যবস্থা, হাসপাতাল-ডাক্তার-নার্স- অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, তীর্থযাত্রীদের থাকার জায়গা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা, জরুরি ক্ষেত্রে হেলিকপ্টার পরিষেবা, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা— সবই করা হয়েছে।’’
গঙ্গাসাগর সেতুর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, ‘‘গঙ্গাসাগর যাতায়াতের জন্য মুড়িগঙ্গা নদীর উপর রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজের টাকায় ‘গঙ্গাসাগর সেতু’ তৈরি করছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার লম্বা, চার লেনের এই অত্যাধুনিক ব্রিজটি বানাতে যে ১৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে, তা আমরাই দিচ্ছি। গত ৫ জানুয়ারি এই সেতুর শিলান্যাস করে এসেছি। এটি তৈরি হয়ে গেলে তীর্থযাত্রীরা সরাসরি সড়কপথে খুব কম সময়ে গঙ্গাসাগর পৌঁছাতে পারবে। সাগরদ্বীপের স্থানীয় মানুষের জন্যও এই সেতু হবে আশীর্বাদস্বরূপ। এলাকার পর্যটন শিল্পও বিপুলভাবে উপকৃত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকার্যে এই সেতুটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করবে।’’ উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে এই সেতুর জন্য কেন্দ্র সরকারের মুখাপেক্ষী ছিল রাজ্য। অবশেষে নিজের অর্থে রাজ্য সরকার সেতু গড়ছে। সম্প্রতি সাগরসফরে এই সেতুর শিলান্যাস করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।