সেনাপ্রধানের হুঁশিয়ারি উড়িয়েই রাজৌরিতে ফের পাক ড্রোন হানা! তিনদিনে দ্বিতীয়বার, কী ছক ইসলামাবাদের?
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২২:৩০: সেনাপ্রধানের কড়া হুঁশিয়ারি কার্যত উপেক্ষা করেই ফের ভারতীয় আকাশসীমায় হানা দিল পাকিস্তানি ড্রোন (Pakistani drone)। জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) পাকিস্তানকে সতর্ক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্ত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজৌরি জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) সংলগ্ন এলাকায় অন্তত দুটি সন্দেহভাজন ড্রোন উড়তে দেখা যায়। গত তিনদিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সীমান্ত এলাকায়।
সেনা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজৌরি সেক্টরের (Rajouri sector) ডুঙ্গালা-নাবলা এলাকার আকাশে সন্দেহভাজন ড্রোন নজরে আসে। আগে থেকেই সতর্ক ছিলেন জওয়ানরা। ড্রোন দেখা মাত্রই ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) মেনে সেগুলিকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। সেনাবাহিনীর তৎপরতায় ড্রোনগুলি (Drones) পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে ড্রোনগুলি গুলি লেগে ভূপাতিত হয়েছে কি না, অথবা সেগুলি কী উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে গোটা এলাকায় জোরদার তল্লাশি ও নজরদারি শুরু হয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই ঘটনার ঠিক আগেই সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী (Upendra Dwivedi) সীমান্তে ওপার থেকে প্ররোচনা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে (Pakistan) কড়া ভাষায় সতর্ক করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ভারতের সুরক্ষা বিঘ্নিত করার যেকোনও প্রচেষ্টার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। কিন্তু সেই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজৌরির আকাশে পাক ড্রোনের উপস্থিতি বুঝিয়ে দিল, ইসলামাবাদ (Islamabad) তাদের পুরোনো ‘ছক’ থেকে সরতে নারাজ।
প্রসঙ্গত, গত রবিবারও সাম্বা, রাজৌরি এবং পুঞ্চ জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অন্তত পাঁচটি ড্রোন চক্কর কাটতে দেখা গিয়েছিল। রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরের গানিয়া-কালসিয়ান গ্রামেও ড্রোন তাড়াতে গুলি চালিয়েছিল সেনা। সেবারও ড্রোনগুলি ভারতীয় আকাশসীমায় কিছুক্ষণ চক্কর কেটে পাকিস্তানের দিকে ফিরে যায়।
পরপর দু’বার এবং মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে এই ড্রোন হানার ঘটনায় প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। সামরিক কর্তাদের অনুমান, ঘন ঘন ড্রোন পাঠানোর নেপথ্যে বড়সড় কোনও নাশকতার ছক কষা হচ্ছে। ড্রোনের মাধ্যমে ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর নজরদারির পাশাপাশি সীমান্তে অস্ত্রশস্ত্র বা মাদক পাচারের চেষ্টা চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে গোটা এলাকায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।