Gangasagar Mela: চলছে পুণ্যস্নান, এখনও অবধি কত পুণ্যার্থীর পা পড়ল সাগরসঙ্গমে?

January 14, 2026 | 2 min read
Published by: Raj

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১০.০০: মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত হয়েছে গঙ্গাসাগরে। বুধবার ভোররাত থেকে শীত উপেক্ষা করে গঙ্গাসাগরে শুরু হয়েছে পুণ্যস্নান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা সাগরে ডুব দিচ্ছেন। সাগরসঙ্গমে এখন জনসমুদ্র। এবছর গঙ্গাসাগর মেলায় পুণ্যস্নানের মহাতিথি শুরু হবে ১৪ জানুয়ারি বুধবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট থেকে। চলবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত। ২৪ ঘণ্টা ধরে পুণ্যার্থীরা পুণ্য স্নানের সুযোগ পাবেন। সুষ্ঠু ব্যবস্থার জন্য একাধিক নতুন পরিকাঠামো ও ডিজিটাল পরিষেবা চালু করা হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলায়। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৬০ লক্ষ পুণ্যার্থী উপস্থিত হয়েছেন গঙ্গাসাগর মেলায় (মঙ্গলবার বিকেল অবধি পরিসংখ্যান অনুসারে)

QR কোডের মাধ্যমে মেলা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য—অনুসন্ধান অফিস, পার্কিং লট, হাসপাতাল-সহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা সম্পর্কে জানা যাবে। বয়স্ক ও শিশুদের জন্য ‘ই-পরিচয়’ এবং রিস্ট ব্যান্ড দেওয়া হচ্ছে, যাতে হারিয়ে গেলে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যায়। মেলা চত্বরকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে প্রশাসন। কয়েক হাজার পুলিশ এবং ভলান্টিয়ারের পাশাপাশি আকাশপথে ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে চলছে নজরদারি।

গঙ্গাসাগর মেলায় এবারই প্রথম ওয়াটার ড্রোন বা রেসকিউ ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছে। সমুদ্রসৈকতজুড়ে নজরদারি চালাবে এই ড্রোন, পাশাপাশি আপৎকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজেও সাহায্য করবে। জলপথে দুর্ঘটনা এড়াতে সিভিল ডিফেন্স, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং নৌবাহিনী নিরন্তর টহল দিচ্ছে। নিখোঁজদের সহায়তার জন্য খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। গঙ্গাসাগরে স্নানের পাশাপাশি কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দেওয়ার জন্য ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। সব এখনও পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে স্নান ও পুজো-অর্চনা চলছে। গঙ্গাসাগরে চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত ৬০ লক্ষ পুণ্যার্থী এসেছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

মেলায় পানীয় জলের জন্য ১৪টি মেশিনে পাউচ জল সরবরাহ করা হচ্ছে, পাশাপাশি ৭৬টি ওয়াটার কিয়স্ক বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ৪২টি ওয়াচ টাওয়ার। ১১ হাজার ৩০০টি টয়লেট তৈরি করা হয়েছে পুন্যার্থীদের জন্য। যাত্রী পরিবহণে বাড়ানো হয়েছে বাস, ভেসেল, বার্জ ও লঞ্চের সংখ্যা। কলকাতা থেকে লট ৮ ঘাট পর্যন্ত চলবে ৩৬০০টি বাস। কচুবেড়িয়া থেকে মেলাপ্রাঙ্গন পর্যন্ত বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০০টি করা হয়েছে অগ্নিনির্বাপণে নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। রুদ্রনগর ফায়ার স্টেশনের পাশাপাশি ১৮টি অস্থায়ী ফায়ার স্টেশন, ১৬টি বাফার জোন, ৩৮টি ভেহিকেল ও ৭৫টি মোটরসাইকেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিক-সহ ৩৭০ জন দমকল কর্মী থাকছেন মেলা প্রাঙ্গনে। উস্তি রোড, খড়িবেড়িয়া থেকে বিষ্ণুপুর থানা, শিরাকল থেকে কপাটহাট, ফলতার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং বঙ্গনগর— এই সব জায়গায় অতিরিক্ত আলো বসানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করে দিনে-রাতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পৈলান থেকে হটুগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ২২টি অস্থায়ী পুলিশ বুথ বসানো হয়েছে। যেকোনও সমস্যায় পুণ্যার্থীরা এখান থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাবেন। সব মিলিয়ে মোতায়েন থাকবেন প্রায় ৬০০ প্রশিক্ষিত হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিন জেলার পুলিশকর্মী।

 

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen