জানুয়ারিতেই শেষ করতে হবে সব শুনানি? কমিশনের ফতোয়ায় চাপ বাড়ল BLO, ERO-দের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১০.৩০: আড়াই মাস ধরে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। সময়ের অপ্রতুলতা নিয়ে বার বার অভিযোগ সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই
কাজের চাপে প্রাণ ওষ্ঠাগত ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ERO-দের। এবার নয়া ফতোয়া দিল কমিশন। সূত্রের খবর, কার্যত নির্দেশ হিসাবে ইআরওদের বলা হয়েছে, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে শুনানি প্রক্রিয়ার যাবতীয় কাজ শেষ করে ফেলতে হবে। কমিশনের এহেন তুঘলকি কাণ্ডে কার্যত দিশাহারা শুনানির দেখরেখের দায়িত্বে থাকা WBCS অফিসাররা।
কমিশনের নিয়মে রয়েছে, শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন ERO-রা। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর নো-ম্যাপ এবং সন্দেহজনক ভোটারদের নোটিশ ইস্যু থেকে অভিযোগের নিষ্পত্তি, যাবতীয় কাজ করতে হবে ERO-দের। সূত্রের খবর, গোটা প্রক্রিয়া আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। কিন্তু মূল নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি ছিল শুনানি শেষের সময়সীমা। সাতদিন পর অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তার অনেক আগেই শুনানি প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করার ফরমান এসেছে।
এই নির্দেশ কার্যকর করা, আদতে অসম্ভব বলেই মত ERO-দের। তাঁদের একাংশের মতে, নো-ম্যাপ ভোটার-সহ যে সংখ্যক সন্দেহজনক ভোটারের নোটিশ ইস্যু করে শুনানি করতে হবে, তা অল্প সময়ের কাজ নয়। নির্ধারিত সময়েও এই কাজ শেষ করা যাবে না বলে মনে করছেন তারা। কমিশনের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৫৮টি শুনানির নোটিশ তৈরির কাজ শেষ হলেও ভোটারদের পাঠানো হয়েছে মোট ৩২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৫১টি নোটিশ। বিপুল সংখ্যক নোটিশ তৈরি হয়নি বলে খবর। শুনানির ক্ষেত্রেও এক চিত্র। মাত্র ৯ লক্ষ ৩০ হাজার ৯৯৩ জন ভোটারের শুনানি সম্পন্ন করা গিয়েছে। দুই ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়ার মত জেলায় নোটিশ পৌঁছনো থেকে শুরু করে শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করতে অনেক সময় লাগছে। ফলে এমন পরিস্থিতিতে নির্দেশ পূর্ণ করা অবাস্তব বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
উল্লেখ্য, বিপুল সংখ্যক সন্দেহজনক ভোটারের তথ্য আগেই সংগ্রহ করে যাচাই করা হলে, এত সংখ্যক শুনানির প্রয়োজন পড়ত না। বিএলওদের স্বল্প সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক ভোটারদের নথি সংগ্রহ করতে নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। বিএলওরা তথ্য সংগ্রহ করে অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করলেও তা যাচাইয়ের পর্যাপ্ত সময় মেলেনি। তাই বিপুল সংখ্যক সন্দেহজনক ভোটারকে এখন শুনানির জন্য ডেকে পাঠাতে হচ্ছে ERO-দের। শুনানি কেন্দ্র বৃদ্ধির পাশাপাশি আরও ২ হাজার মাইক্রো অবজার্ভারকেও শুনানির কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে।