‘গণতন্ত্রের উৎসবকে ছারখার করার চক্রান্ত’, বাঁকুড়ায় ভুয়ো ‘ফর্ম-৭’ উদ্ধারের ঘটনায় BJP-কমিশনকে তোপ তৃণমূলের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪.০০: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বিজেপি (BJP)। এই কাজে তাদের মদত দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) এবং পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik)। বাঁকুড়ার খাতড়ায় হাজার হাজার পূরণ করা ‘ফর্ম ৭’ সহ বিজেপি কর্মীদের ধরা পড়ার ঘটনাকে সামনে রেখে তাঁরা দাবি করেন, দেড় কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে, এটি তারই অংশ।
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে পার্থ ভৌমিক ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বাঁকুড়ার খাতড়ার একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তাঁরা জানান, গতকাল খাতড়ায় একটি গাড়ি আটক করা হয়, যেখান থেকে প্রায় ৩-৪ হাজার পূরণ করা ‘ফর্ম ৭’ উদ্ধার হয়েছে। গাড়িতে থাকা পাঁচজন বিজেপি (BJP) কর্মীর মধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং তিনজন পলাতক। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, “ওই ফর্মগুলিতে তালড্যাংরা বিধানসভার ভোটারদের নাম রয়েছে। এই ফর্মগুলি ব্ল্যাঙ্ক ছিল না, বরং আগে থেকেই পূরণ করা ছিল। অর্থাৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই বিপুল সংখ্যক ফর্ম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।”
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরা বলেন, “কমিশন এখন অঘোষিতভাবে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে। সংবিধান অনুযায়ী ভোট গণতন্ত্রের উৎসব, কিন্তু বিজেপি সেই উৎসবকে ছারখার করে দিতে চাইছে।” তৃণমূলের দাবি, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির (Logical Discrepancy) দোহাই দিয়ে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ছক কষা হয়েছে। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বারবার ওই তালিকা চাইলেও কমিশন তা প্রকাশ করেনি।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumdar) সিঙ্গুরে শিল্প সংক্রান্ত মন্তব্যেরও কড়া জবাব দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “সিঙ্গুরে কৃষি জমি যে অন্যায়ভাবে অধিগৃহীত হয়েছিল, তা সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) রায় দিয়ে জানিয়েছিল। যেদিন তাপসী মালিককে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, তখন সুকান্তবাবুদের দেখা যায়নি। এখন ভোটের আগে শিল্পের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।”
গঙ্গাসাগর মেলা প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, কুম্ভমেলার জন্য কেন্দ্র কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও, গঙ্গাসাগরের মতো আন্তর্জাতিক মানের মেলার জন্য এক পয়সাও দেয় না। অথচ এখান থেকে পুণ্য অর্জনের টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিশেষে তৃণমূল নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বাংলার মাটিতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দিতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটবে দল। রাম ও রাবণের উপমা টেনে তাঁরা বলেন, “রাম ও রাবণ দুজনেই পুজো করেছিলেন, কিন্তু দেবী দুর্গা রামের পুজো গ্রহণ করেছিলেন এবং রাবণের বধ হয়েছিল। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষ সঠিক বিচার করবে।”