‘প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে একটু ভাবুন’, শুনানি শেষে কমিশনের কাছে আর্জি দেবের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪:৪০: অমর্ত্য সেন থেকে আম জনতা, কেউই রেহাই পাচ্ছেন না শুনানির কবল থেকে। প্রবীণ নাগরিক, অসুস্থদের শুনানিতে ডেকে হয়রানির অভিযোগ উঠছে। শুনানিতে ডাক পেয়ে আজ, বুধবার হাজির হয়েছিলেন ঘাটালের তৃণমূলের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব। আজ, যাদবপুরে কাটজুনগর স্বর্ণময়ী বিদ্যাপীঠে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন দেব। শুনানি শেষে তিনি হাসিমুখে বের হলেন। সেই সঙ্গে কমিশনের কাছে মৌখিকভাবে একটি আবেদনও জানান তৃণমূল সাংসদ।
শুনানি থেকে বেরিয়ে দেব বলেন, নথি হিসাবে তিনি পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমি সাংসদ দেব। এ দলে থাকলে ওই দল ‘হ্যারাস’ করবে। ও দলে থাকলে এ দল ‘হ্যারাস’ করবে। কিন্তু ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন হওয়ার থাকলে কেন আগে হল না? কেন ভোটের দু’-তিন মাস আগে এ সব শুরু হল? এক বছর আগে কেন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা শুরু হল না? এই ঠান্ডার মধ্যে কত মানুষকে যেতে হচ্ছে!’’ কমিশনের কাছে তাঁর আর্জি, ‘‘প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে একটু ভাবুন, কমিশনের কাছে এটাই আমার করজোড়ে অনুরোধ। আমাদের দল বা অন্য যে দলই ভোটে জিতুক, কোনও নাগরিকের ভোটাধিকার যেন নির্বাচন কমিশনের চক্করে চলে না যায়।’’
সাংসদ জানান, তিনি জানেন না কার ভুলে, কেন তাঁকে ডাকা হল। তিনি নিয়ম মেনে ফর্ম পূরণ করেছিলেন। তৃণমূল সাংসদ বলেন, ‘‘আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। বলতে চাই না যে, এটা কমিশনের ভুল বা দেবের ভুল। আমি ২০১১ থেকে আমি (বাংলায়) ভোট দিচ্ছি। সেগুলো কি ভুল ভোট ছিল? রাজনীতি চলতে থাকবে। কিন্তু আমার চিন্তা প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে। অনেকে আধ ঘণ্টার বেশি দাঁড়াতে পারেন না লাইনে। সেই অবস্থাই নেই তাঁদের। তাঁদের নিয়ে যেন কমিশন একটু ভাবেন।’’
দেবের জন্ম পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। ছোট থেকে বাবার কাজের সুবাদে তিনি মুম্বইয়ে থাকতেন। অভিনয়ের কারণে তিনি কলকাতায় ফেরেন। এখন স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। মোট তিনবারের সাংসদ তিনি। তাঁকেই নোটিশ পাঠানোয় প্রশ্ন তোলে রাজ্যের শাসকদল। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছিলেন। বুধবার শুনানিতে হাজিরা দিয়ে ঘাটালের সাংসদ জানালেন, তাঁকে ভোগান্তি পোয়াতে হয়নি। দেব বলেন, ‘‘ভিতরে অনেক ছবি তুললাম। অনেককে অটোগ্রাফ দিলাম। আর কিছু কাগজে সই করলাম। ব্যস।’’ রাজ্য তথা দেশের সাধারণ ভোটারদের নিয়ে তিনি চিন্তিত।