‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নিয়ে রঞ্জিত মল্লিকের দুয়ারে অভিষেক, কী নিয়ে হল আলোচনা?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৯.০১: প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের (Ranjit Mallick) বাড়িতে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের প্রবীণ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও (Sovandeb Chattopadhyay)। মঙ্গলবার দক্ষিণ কলকাতার অভিনেতার বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান অভিষেক। সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজ্য সরকারের গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক জানান, তিনি অভিনেতার হাতে রাজ্য সরকারের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ বা গত দেড় দশকের কাজের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার বয়স যখন পাঁচ-সাড়ে পাঁচ বছর, তখন থেকেই ওনাকে চিনি। সিনেমার প্রতি ওনার অবদান আগামী কয়েক শতাব্দী স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আজ মূলত আমাদের রাজ্য সরকারের গত ১৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং কর্মযজ্ঞের খতিয়ান ওনার হাতে তুলে দিয়েছি।”
রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিকাঠামো, পর্যটন ও কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি অভিষেক কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কী অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে সরকারকে কাজ করতে হয়েছে, বিশেষ করে ২০২১ সালে তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর, তা বিস্তারিত জানিয়েছি। একদিকে বিচার ব্যবস্থার একাংশ এবং সিবিআই-ইডিকে কাজে লাগানো হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলার প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া আটকে রাখা হয়েছে। এত কিছুর পরেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, আবাস যোজনার মতো জনহিতকর প্রকল্পগুলি সচল রাখা হয়েছে।” বাম আমলের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি দাবি করেন, আগে সরকারি কর্মচারীরা বেতন পেতেন না, যা বর্তমান সরকার সুনিশ্চিত করেছে।
তবে এই সাক্ষাৎ যে নিছকই সৌজন্যমূলক এবং কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তিনি বলেন, “ওনার সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক কথা হয়নি। আমাদের রাজ্য সরকারের যুগান্তকারী প্রকল্পগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং উনি তা শুনে প্রশংসা করেছেন।”
অন্যদিকে, অভিষেকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর আপ্লুত অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকও। সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এনাকে আমার খুব ভালো লাগে, এইটুকুই বলছি। খুব ভালো লাগে ওনাকে।”