কেন্দ্রের নেতারা চাপিয়ে দিচ্ছেন কর্মসূচি, রাজ্য নেতৃত্বে অসন্তোষ বাড়ছে
একুশের নির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার প্রধান কারণ অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় নির্ভরতা। সেটা ইতিমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তবুও জেদ বজায় রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় শাসন শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ! আর তাতে বঙ্গ– বিজেপির বহু নেতারাই এখন অতিষ্ট। নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় নেতারা বঙ্গ–বিজেপি (BJP) নেতাদের উপর কর্মসূচি চাপিয়ে দিচ্ছেন। তা বাধ্য হয়ে মানতে হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন এখনও বাংলার পালস বুঝতে পারেননি কেন্দ্রীয় নেতারা। তাই এমন ধরনের কর্মসূচি চাপিয়ে যাচ্ছেন।
একুশের নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য বঙ্গ–বিজেপি নেতারা দলের কেন্দ্রীয় শাসনকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। দিল্লির খবরদারি থেকে মুক্ত হওয়ার বার্তাও দিয়েছিলেন ঘনিষ্ঠমহলে। কিন্তু তাতে যে কোনও লাভ হয়নি সেটা আবার বোঝা গেল। ঠিক কী ঘটেছে? নয়াদিল্লি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলা থেকে নতুন চার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে সামনে রেখে আগামী ১৬ অগস্ট থেকে পদযাত্রা বের করা হবে রাজ্যজুড়ে। আর তা চলবে ১৯ অগস্ট পর্যন্ত। নাম দেওয়া হয়েছে আশীর্বাদ যাত্রা। এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নড্ডা (JP Nadda)। সূত্রের খবর, আর তাতেই প্রচণ্ড খোচেছে রাজ্য বিজেপি নেতারা।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘গো–বলয়ের এই যাত্রা–সংস্কৃতি বাংলায় কোনও প্রভাব ফেলে না। সদ্য নির্বাচনের ফলাফলেই তা স্পষ্ট। অসন্তোষ থেকেই নয়াদিল্লির এই কর্মসূচির নাম পাল্টে রাখা হচ্ছে শহিদ সম্মান যাত্রা।’ আর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে যদি অশান্তি পাকে তাহলে খেসারত দিতে হবে পার্টির নিচুতলার কর্মীদেরই।
ইতিমধ্যেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা নয়াদিল্লিতে সোমবার এবং মঙ্গলবার যাত্রার কর্মসূচি বিষয় চূড়ান্ত করতে বৈঠক করেছেন। সেখানে ছিলেন এই রাজ্যের দলীয় সাংসদ এবং কয়েকজন পদাধিকারী। সেটা রাজ্য নেতাদের কানে ওঠা মাত্রই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছেন তাঁরা। বিরক্তির সঙ্গে তাঁরা ঘনিষ্ঠমহলে বলেছেন, করোনা আবহে তাঁরা রাস্তায় আশীর্বাদ চাইতে নামলে মানুষ রাস্তার দু’পাশে ভিড় করে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে থাকবে না। গোটা কর্মসূচি চূড়ান্ত ফ্লপ হবে এবং নিচুতলার কর্মীদের মনোবল আরও ধাক্কা খাবে।
আবার চার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য হবে ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত দলীয় কর্মীদের বাড়ি যাওয়া। এই নিয়ে রাজ্য বিজেপির নেতারা প্রকাশ্যে কেউ তাঁদের উষ্মার কথা বলতে চাইছেন না। তবে ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন—নয়াদিল্লির চাপিয়ে দেওয়া কর্মসূচি থেকে কবে নিষ্কৃতি মিলবে?