হাসির আড়ালে যন্ত্রণার গল্প: এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন দেবলীনা নন্দীকে দেখতে এলেন মদন মিত্র

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:৪৫: সোশ্যাল মিডিয়ায় রঙিন হাসির আড়ালে যে গভীর বিষাদ লুকিয়ে ছিল, তা যেন আচমকাই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। স্বামী প্রবাহর সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েনে চরম মানসিক অবসাদে ভেঙে পড়েছিলেন সঙ্গীতশিল্পী ও ইনফ্লুয়েন্সার দেবলীনা নন্দী। আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকেও এক সময় পা বাড়ান তিনি। তবে দ্রুত চিকিৎসা শুরু হওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন দেবলীনা। এই মুহূর্তে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন তিনি, যদিও মানসিক ট্রমা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
বুধবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে দেবলীনাকে দেখে আসেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। দেবলীনাকে তিনি আগে থেকেই চেনেন। বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের সূত্র ধরেই এই সাক্ষাৎ। হাসপাতালে কিছুক্ষণ কথা বলে দেবলীনাকে মানসিক শক্তি ধরে রাখার পরামর্শ দেন বিধায়ক।
এই ঘটনার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগাতার ট্রোলের মুখে পড়ছেন দেবলীনা। সেই প্রসঙ্গে স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দেন মদন মিত্র। তিনি জানান, যে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দেবলীনাকে দেখা হচ্ছে, সেই চিকিৎসকের নির্দেশ মেনেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, এই সময় মানসিক চাপ যতটা সম্ভব কম রাখা অত্যন্ত জরুরি।
দেবলীনার দিদি শর্মিষ্ঠা আগেই জানিয়েছিলেন, আপাতত বিপন্মুক্ত হলেও দেবলীনাৰ মানসিক অবস্থা এখনও স্থিতিশীল নয়। এমনকি চিকিৎসকরাও পরিবারকে সতর্ক করেছেন—এই ট্রমার জেরে আবারও আত্মঘাতী প্রবণতা দেখা দিতে পারে। সেই কথা উল্লেখ করে মদন মিত্র বলেন, “এই মুহূর্তে দেবলীনাকে মানসিক চাপ থেকে দূরে রাখতে হবে। মোবাইল কম ব্যবহার করাই ভালো। গান গাওয়া হয়তো আবার শুরু করবে, কিন্তু আগে দরকার মানসিক সুস্থতা।”
হাসপাতালে এসে মদন মিত্র দেবলীনাকে সুস্থ হয়ে উঠলে কামারাহাটিতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও জানান। পাশাপাশি নেটদুনিয়ার কটাক্ষ ও ট্রোলিং নিয়ে তিনি বলেন, “এত বড় দুনিয়ায় কিছু মানুষ থাকবেই। আমাকে নিয়ে ট্রোল হলেও আমি খুশি হই। যত ট্রোল, ততই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।”
সব আলোচনার ঊর্ধ্বে এখন একটাই প্রশ্ন—দেবলীনা নন্দী কত দ্রুত মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারবেন। হাসি, গান আর সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলের আড়ালে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার ক্ষত সারাতে সময় লাগবেই। এই মুহূর্তে প্রয়োজন সহানুভূতি, বোঝাপড়া আর নিঃশব্দে পাশে থাকার মানসিকতা। কারণ ট্রোল নয়, ভালোবাসা আর মানবিকতাই পারে দেবলীনাকে আবার জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে।