অমর্ত্য সেনকে SIR শুনানির নোটিস, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ হয়রানির অভিযোগে ক্ষোভ বোলপুরে
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২১:২০: নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তথা ভারতরত্ন অমর্ত্য সেনকে কি এবার নিজের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? ভোটার তালিকায় নাম যাচাই বা শুনানির নোটিস পাঠানোকে কেন্দ্র করে এমনই প্রশ্নে উত্তাল বোলপুর (Bolpur)। খোদ অমর্ত্য সেনকে (Amartya Sen) শুনানির নোটিস পাঠানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বোলপুরবাসী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার রামপুরহাটের এক জনসভায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য নোবেল জিতে আনা ব্যক্তিত্বকেও এরা হেনস্তা করতে ছাড়েনি।” তাঁর এই বক্তব্যের পরেই বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়।
জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি মূলত প্রযুক্তিগত বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র কারণে ঘটেছে। এক ইআরও (Electoral Registration Officer)-এর মতে, অমর্ত্য সেন তাঁর মা অমিতা সেনের নথি দিয়ে ভোটার তালিকার ফর্ম পূরণ করেছিলেন। কমিশনের সফটওয়্যারে ধরা পড়ে যে, মা ও ছেলের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরের কম। এই প্রযুক্তিগত অসামঞ্জস্যের কারণেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর নাম ‘রিভেরিফাই’ বা পুনঃযাচাইয়ের তালিকায় চলে এসেছে। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, বিএলও শান্তিনিকেতনে অমর্ত্য সেনের বাড়ি ‘প্রতীচী’-তে গিয়ে শুনানি করবেন।
বর্তমানে অমর্ত্য সেন আমেরিকার বোস্টনে রয়েছেন। খসড়া তালিকায় বোলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৬৯ নম্বরে তাঁর নাম রয়েছে। তবে তাঁর বাড়ির দায়িত্বে থাকা গীতিকন্ঠ মজুমদার জানিয়েছেন, “আমরা এখনও হাতে কোনো নোটিস পাইনি। তবে যদি এমনটা হয়ে থাকে, তবে তা নিশ্চিতভাবেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদের মতো ব্যক্তিত্বকে সাধারণ প্রযুক্তিগত কারণে শুনানির আওতায় আনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সব মহলে।