আটলান্টিকে রুশ জাহাজ আটকাল আমেরিকা, পালটা সামরিক প্রত্যাঘাতের দাবি রাশিয়ায়

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৯:৩০: আটলান্টিক মহাসাগরে রুশ তেলবাহী জাহাজ বাজেয়াপ্ত করল মার্কিন মেরিন কমান্ডো! এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই মহাশক্তিধর দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকার এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশিয়ার এক আইনসভা সদস্য (এমপি) অবিলম্বে সামরিক প্রত্যাঘাতের দাবি তুলেছেন। এমনকি, প্রয়োজনে টর্পেডো দিয়ে আমেরিকার উপকূলরক্ষী বাহিনীর বোট ডুবিয়ে দেওয়ার জন্যও প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) কাছে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, ‘ম্যারিনেরা’ (সাবেক নাম বেলা-১) নামের ওই রুশ তেলবাহী জাহাজটিকে সুরক্ষা দিতে একটি সাবমেরিন-সহ নৌসেনা মোতায়েন করার চেষ্টা করেছিল মস্কো। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয় মার্কিন মেরিন কমান্ডো বাহিনী। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, আমেরিকার জারি করা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই ওই জাহাজে তেল পরিবহণ করা হচ্ছিল। মার্কিন ফেডেরাল আদালত থেকে জারি হওয়া পরোয়ানার ভিত্তিতেই জাহাজটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটন সূত্রে খবর।
এই ঘটনার পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রাশিয়ার এমপি অ্যালেক্সেই জুরাভলেভ। তিনি অভিযোগ করেন, আমেরিকা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাদের জাহাজ আটকে রেখেছে। পালটা ব্যবস্থা হিসেবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। অ্যালেক্সেই বলেন, “নিজেদের জলসীমা থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে এসে পাহারা দিচ্ছে মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী। আমাদের উচিত টর্পেডো দিয়ে ওদের বোটগুলো ডুবিয়ে দেওয়া। ভেনেজুয়েলায় অভিযানের পর থেকেই আমেরিকা বাড়াবাড়ি শুরু করেছে। এখন গায়ের জোরেই ওদের আটকানো দরকার।”
যদিও রুশ বিদেশমন্ত্রক এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও প্রত্যাঘাতের কথা ঘোষণা করেনি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালেক্সেই জুরাভলেভের এই মন্তব্যকে এখনই পুতিন সরকারের সরকারি বিবৃতি হিসেবে দেখা উচিত নয়, কারণ তিনি একজন এমপি মাত্র।
সূত্রের খবর, অতীতে এই জাহাজটি (তখনকার নাম বেলা-১) ইরানের তেল পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তীতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলা সরকার এটিকে তেল পরিবহণের কাজে ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ মার্কিন সংবাদমাধ্যমের। প্রসঙ্গত, রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিন মার্কিন সেনাকর্তা জানিয়েছেন, উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও মস্কোর পক্ষ থেকে ওই তেলবাহী জাহাজটির ওপর হামলা না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল।