ফের SIR আতঙ্কে মৃত্যু! বারাসাতে শুনানির লাইনের দাঁড়িয়ে প্রাণ গেল যুবকের
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১১:১০: SIR আতঙ্কে জারি মৃত্যু মিছিল। শুনানি লাইনে দাঁড়িয়েই মৃত্যু হল বারাসাতের যুবকের। শুনানিতে ডাক পড়তেই গ্রাস করেছিল ভয়। কেঁদে ভাসিয়েছিলেন। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে শুনানির জন্য বারাসত ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসে গিয়েছিলেন মা। শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল বছর আটত্রিশের যুবকের।
মৃতের নাম রমজান আলি। তিনি মধ্যমগ্রাম বিধানসভার রোহন্ডা চণ্ডীগড় মাঠপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পেশায় গাড়ি চালক। তাঁর পরিবারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় মৃতের নাম ছিল না। বৃহস্পতিবার রমজানকে খড়িবাড়ির বারাসত ব্লক ২ বিডিও অফিসে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। মায়ের সঙ্গে শুনানিকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। তারপর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন যুবক। বিডিওর গাড়িতে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। চিকিৎসক জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে রমজানের। তাঁর বৃদ্ধ মা সালমা বেগম বলেন, শুনানি নিয়ে চিন্তায় ছেলে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর কাছে বলছিল কি হবে! জিজ্ঞাসা করছিল তাঁকে কি ধরে নিয়ে যাবে? মা আশ্বস্ত করেছিলেন, যা হবে দেখা যাবে। সঙ্গেও যান। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হল না। আতঙ্কেই মৃত্যু হল রমজানের।
মৃতের বাড়িতে যান স্থানীয় বিধায়ক তথা খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। রাজ্যের মন্ত্রী বলেন, “বৈধ ভোটারদের অযথা হয়রানি করতে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। আর কত মানুষকে নিজেদের নাগরিক প্রমাণ করতে প্রাণ দিতে হবে! নাগরিকত্ব রাখার জন্য হিয়ারিংয়ে গিয়ে আর বাড়ি ফিরবো না, এটা মেনে নেওয়া যায় না। মৃত যুবকের পরিবারের মা, স্ত্রী দুই সন্তান আছে। তাঁদের কী করে চলবে! আমি শুনানি কেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার দাবি করছি।”