আবার পত্রাঘাত! SIR আবহে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পঞ্চম চিঠি মমতার

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:১৫: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে কেন্দ্র ক্রমশ সংঘাত বাড়ছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে। বিজেপি ও কমিশন যোগ নিয়ে সরব তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বময়নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশন কর্তৃক নাগরিক হয়রানির বিরুদ্ধে সরব তাঁর দল। চলতি জানুয়ারিতে তিন তিনটি চিঠি তিনি লিখলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। SIR আবহে এই নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচটি চিঠি লিখলেন জ্ঞানেশ কুমারকে। সোমবারের চিঠিতে মমতার অভিযোগ, SIR-র ক্ষেত্রে যে পদ্ধতিতে কাজ চলছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন, সঠিক নয়। মমতার আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ায় কাজ চললে যে কোনও সময়ে যে কোনও ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবে।
ইনিউমারেশন পর্বের পর খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। এখন এসআইআরের শুনানি চলছে। শুনানি পর্বে ভোটারদের হয়রানির শেষ নেই। মমতার অভিযোগ, ভোটারদের দেওয়া নথিপত্র নির্বাচন কমিশন গ্রাহ্য করছে না, প্রাপ্তিস্বীকারও করছে না। কার্যত, এই অভিযোগেই দিল্লির কমিশনকে পঞ্চম চিঠি পাঠালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখছেন, SIR-র নামে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা মৌলিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ এবং সংবিধানসম্মত নয়। মমতার অভিযোগ, শুনানির সময় বহু ভোটার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও তার কোনও প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। যাচাই পর্যায়ে নথিগুলিকে ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বা ‘রেকর্ডে নেই’ হিসাবে চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
মমতার অভিযোগ, নথি জমা দেওয়ার কোনও প্রমাণ ভোটারদের হাতে না-থাকায় পুরোপুরি প্রশাসনিক গাফিলতির দয়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন তাঁরা। ভোটারদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের উদ্দেশ্য ছিল ভোটার তালিকা শুদ্ধ করা, বৈধ ও যোগ্য ভোটারদের বাদ দেওয়া নয়।
মমতার মতে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই যুক্ত রয়েছে, তাঁদের অনেককেই অকারণে শুনানির নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। অথচ তাঁদের নাম পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপ করা। ফলে নতুন করে শুনানির প্রয়োজন নেই। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নথি স্ক্যান ও অনুবাদের বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার প্রশাসনিক প্রধানের দাবি, SIR প্রক্রিয়ায় নাম, বয়স, লিঙ্গ, সম্পর্ক বা অভিভাবকের নামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে গুরুতর ভুল ঢুকে পড়ছে। বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ দেখিয়ে সমস্যার মুখে ফেলা হচ্ছে।
তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, নামের সামান্য বানানগত পার্থক্য, বয়সের ভুলের মতো বিষয় নিয়েও শুনানির নোটিস জারি করা হচ্ছে। সহজ প্রশাসনিক সমাধানের মাধ্যমে এগুলি মেটানো সম্ভব ছিল। তা না-করে সরাসরি শুনানির পথে হাঁটা হচ্ছে। গত ২৩ বছরে অসংখ্য ভোটার ফর্ম-৮ জমা দিয়ে সরকারি নথির ভিত্তিতে তথ্য সংশোধন করিয়েছেন এবং সেই সব তথ্য যাচাই করে বর্তমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়াকেই উপেক্ষা করে আবার নতুন করে পরিচয় ও যোগ্যতা প্রমাণের জন্য ভোটারদের বাধ্য করা হচ্ছে। কমিশন কি আইনসম্মত নিজস্ব প্রক্রিয়াকেই অস্বীকার করছে? প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তাঁর মতে, এই পদ্ধতি সংবিধানের ভাবনার পরিপন্থী। চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রীর আশা, নির্বাচন কমিশন দ্রুত এই বিষয়গুলির প্রেক্ষিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ করবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার, ১০ জানুয়ারি মাত্র ২ দিন আগেই শুনানির নোটিশ সংক্রান্ত বিষয়ে আপত্তির কথা জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই চিঠিতে মমতা লিখেছিলেন, উত্তর পাবেন না জেনেও তিনি লিখছেন। কারণ, তিনি মনে করেন; দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে জানানো তাঁর কর্তব্য। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার পর ঘোষণা করেছিলেন, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি যাবেন। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলের অন্দরে দিল্লিতে আন্দোলনের কথা বলেছেন। মনে করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই দিল্লি যেতে পারেন মমতা। ভোটের আগে SIR বিরোধী আন্দোলনে ঢেউকে দিল্লির দরবারে পৌঁছতে দিতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।