‘দেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না’! SIR-র কাজ থেকে অব্যাহতি চাইলেন ARO

লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি সংক্রান্ত নির্দেশে আপত্তি তুলে সরাসরি পদত্যাগপত্র পাঠালেন বাগনান বিধানসভা কেন্দ্রের এআরও মৌসম সরকার। তাঁর অভিযোগ, এই লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সি অর্থহীন এবং দেশের একটা বড় অংশ, প্রান্তিক শ্রেণির মানুষকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত। দেশের মানুষের সঙ্গে এবং দেশের সঙ্গে বেইমানি করতে পারবেন না তিনি। তাই এসআইআরের কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বাগনান বিধানসভা কেন্দ্রের এইআরও মৌসম সরকার পদত্যাগপত্র পাঠালেন সংশ্লিষ্ট ইআরও অচিন্ত্যকুমার মণ্ডলকে। গত ৮ জানুয়ারি, বুধবার তিনি এই চিঠি দিয়েছেন।
মৌসম সরকার বর্তমানে বাগনান ২ নম্বর ব্লকের ব্লক ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অফিসার। আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে ওই ব্লকে শুরু হওয়ার কথা লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির শুনানি। সংখ্যাটা প্রায় ২৪ হাজার। তার আগেই এআরও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
চিঠিতে মৌসম সরকার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির ক্ষেত্রে যেসব নামের বানান বা বয়সে গরমিল দেখানো হচ্ছে, তার বেশিরভাগই পুরনো। ২০০২ সালের তথ্য অনুযায়ী যেসব ভুল ছিল, সেগুলি পরবর্তীকালে সাধারণ মানুষ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ৮ নম্বর ফর্ম পূরণ করে সংশোধন করেছেন। সেই কারণেই এখন তথ্যের সঙ্গে অমিল ধরা পড়ছে। বয়সের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য।
এই বিষয়ে মৌসম সরকার বলেন, “দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি, এ ধরনের লজিক্যাল ডিসক্রিপান্সির কোনও মানে হয় না। পরিকল্পিতভাবে বড় অংশের মানুষের, বিশেষ করে প্রান্তিক শ্রেণির ভোট বাতিল করার চেষ্টা হচ্ছে। সমাধানের নামে যে ১২টি নথি চাওয়া হচ্ছে, এই শ্রেণির মানুষের কাছে সেগুলি নেই। তাঁদের কাছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ও রেশন কার্ড রয়েছে, অথচ সেগুলি গ্রহণ করা হচ্ছে না। এতে বহু মানুষ ভয়ঙ্কর সমস্যায় পড়বেন।” এই কারণেই বিবেকের তাড়নায় তিনি এআরও পদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বলে জানান মৌসম সরকার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি দেশের মানুষের সঙ্গে এবং দেশের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। তাই এই পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছি।”