SIR তালিকায় বড়সড় বিভ্রাট! জেলায় জেলায় হদিশ মিলল ৯৭ জন ‘মৃত’ অথচ জীবিতের নাম

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৮:৫৫: রাজ্যে চলমান এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া ঘিরে বড়সড় বিভ্রাটের ছবি সামনে এল। ভোটার তালিকাকে ত্রুটিমুক্ত করার উদ্দেশ্যে যে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে, সেখানেই উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। নথিপত্রে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও বাস্তবে দিব্যি বেঁচে আছেন, রাজ্যজুড়ে এমন ৯৭ জন ভোটারের হদিশ মিলল। সিইও (CEO) দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যের মোট ১৮টি জেলায় এই ধরনের ভুলের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) তথ্য অনুযায়ী, জীবিতকে ‘মৃত’ দেখানোর ঘটনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। এই জেলায় মোট ২৪ জন ভোটারের ক্ষেত্রে এই ভুল হয়েছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র মেটিয়াবুরুজ বিধানসভা কেন্দ্রেই ২৩ জন জীবিত ব্যক্তিকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। এছাড়া কাকদ্বীপ বিধানসভায় ১ জনের ক্ষেত্রে একই ঘটনা ঘটেছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কোচবিহার জেলা। সেখানকার ৬টি বিধানসভা মিলিয়ে মোট ১৬ জনের নাম এই তালিকায় রয়েছে। যার মধ্যে কোচবিহার দক্ষিণে ৭ জন ও মাথাভাঙ্গায় ৫ জন রয়েছেন।
অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যে পূর্ব বর্ধমানে ৯ জন, হাওড়া ও হুগলিতে ৭ জন করে, নদীয়া, দক্ষিণ কলকাতা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ৫ জন করে ভোটারকে মৃত দেখানো হয়েছে। এছাড়া পশ্চিম বর্ধমানে ৪ জন এবং বীরভূমে ৩ জন এই তালিকায় রয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ারে ২ জন করে এবং বাঁকুড়া ও জলপাইগুড়িতে ১ জন করে জীবিত ভোটারকে মৃত প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুল চিহ্নিত এই ৯৭ জনের মধ্যে ৭০ জন ভোটারকে খুঁজে বের করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে ৪ জন ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকিদের নাম উঠে এসেছে বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
তৃণমূলের অভিযোগ, এই ধরনের ভুল কেবল প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, এর ফলে বহু প্রকৃত ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। মাঠপর্যায়ে যাচাই বা ভেরিফিকেশন আরও সতর্কভাবে করার দাবি জানিয়েছে তারা। অন্যদিকে, বিজেপি প্রকাশ্যে বড় কোনও মন্তব্য না করলেও তারাও কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য ছিল ভুয়ো ও ডুপ্লিকেট নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকাকে নির্ভুল করা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়াতেই জীবিতদের ‘মৃত’ ঘোষণা করায় কমিশনের কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিতর্কের মুখে সিইও দপ্তর জানিয়েছে, সামনে আসা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁদের ভুলবশত মৃত দেখানো হয়েছে, তাঁদের নথি পুনরায় যাচাই করে দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছে কমিশন। কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ না যায়, সেদিকে সর্বাধিক নজর দেওয়া হচ্ছে বলে সিইও দপ্তর (CEO Office) সূত্রে খবর।