নিজেই নিজেকে শুনানির নোটিস ধরালেন BLO! মুর্শিদাবাদে SIR প্রক্রিয়ায় বড়সড় বিভ্রাট
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২২:২১: সর্ষের মধ্যেই ভূত নাকি প্রদীপের নিচেই অন্ধকার? ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত খোদ আধিকারিককেই (BLO) নিজের নাগরিকত্ব বা ভোটার তথ্য প্রমাণের জন্য শুনানির নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)! আর সরকারি নির্দেশ মেনে বিএলও হিসেবে সেই নোটিস নিজেই নিজের হাতে গ্রহণ করলেন মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) শমসেরগঞ্জের শিক্ষক আবু ওবায়দা বিন জাররাহ (Abu Ubayda ibn al-Jarrah)। কমিশনের এই ‘অদ্ভুত’ পদক্ষেপে হতবাক সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তথা প্রশাসনিক মহল। প্রশ্ন উঠছে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়ার নির্ভুলতা নিয়ে।
জানা গিয়েছে, পেশায় স্কুল শিক্ষক আবু ওবায়দা শমসেরগঞ্জ ব্লকের চাচন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১১ নম্বর বুথের BLO-র দায়িত্বে রয়েছেন। ১৯৯৯ সাল থেকে শিক্ষকতা করছেন এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে তিনি যথেষ্ট অভিজ্ঞ। বর্তমানে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই বা SIR-র কাজ চলছে জোরকদমে। মঙ্গলবার সকালে বিডিও অফিস (BDO Office) থেকে পাঠানো সন্দেহভাজন ভোটারদের শুনানির নোটিসের বান্ডিল পরীক্ষা করতে গিয়েই চক্ষু চড়কগাছ বিএলও-র। দেখেন, অন্যের হাতে নোটিস তুলে দেবেন কী, খোদ তাঁর নামেই জারি হয়েছে শুনানির নোটিস!
স্বভাবতই এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ওই শিক্ষক। তাঁর কথায়, “বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আমি জমা দিয়েছি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের খসড়া তালিকাতেও নাম আছে। সমস্ত প্রমাণ দেওয়ার পরেও কেন আমাকে শুনানিতে ডাকা হল, তা কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না।’’
তবে শুধু আবু ওবায়দা নন, তাঁর বুথে প্রায় ৩০০ জন সাধারণ ভোটারের কাছে শুনানির নোটিস গিয়েছে। এই তালিকা থেকে বাদ যাননি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ওসিকুল আলমও। বিএলও হিসেবে ওসিকুলের হাতেও নোটিস পৌঁছে দিয়েছেন আবু। ওসিকুল আলমের আক্ষেপ, তাঁর বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের তালিকাতে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে।
আপাতত নিয়ম ও সরকারি নির্দেশ মেনে বিডিও অফিসে শুনানির জন্য হাজিরা দেবেন বলে জানিয়েছেন ‘বিস্মিত’ বিএলও আবু ওবায়দা। তবে কমিশনের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই তালিকা এবং গোটা প্রক্রিয়াটি কতটা ত্রুটিমুক্ত, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষের মনে।