শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে নালিশ শমীককে, তৃণমূল বলল ‘বাংলা-বিরোধী’ মডেল
Authored By:
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪:২৫: রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ! রেলে চাকরি, লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতা শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। সমাজ মাধ্যমে, দলের অফিসিয়াল পেজে অভিযোগপত্রের একটি ছবি পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগপত্রের সত্যতা যাচাই করেনি দৃষ্টিভঙ্গি। কাঁথি থেকে জনৈক অনিমেষ গিরি চিঠিটি পাঠান রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। চলতি বছরের ১১ আগস্ট চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল।
What @SuvenduWB has been accused of is not an aberration. It is the @BJP4India and Bangla Birodhi model in action: loot money and then betray your own.
A written complaint submitted to the West Bengal State President of the BJP by Animesh Giri, a BJP worker and RSS member from… pic.twitter.com/3pIdzKNrOM
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial) December 14, 2025
চিঠিতে অভিযোগকারীর দাবি, তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রেল ও প্রাইমারিতে চাকরি এবং দেশের সাংসদ করে দেওয়ার দাবি করে নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা বিরোধী দলনেতা আড়াই কোটি টাকা নিয়েছিলেন। যে টাকা আজও ফেরত পাননি অনিমেষ। নিজেকে বিজেপি কর্মী ও সঙ্ঘের (RSS) সদস্য হিসাবে দাবি করেছেন অনিমেষ। পরিবারের প্রাণহানির আশংকার কথাও জানান তিনি। চিঠিতে একাধিক উচ্চ নেতৃত্বের কাছে টাকা ফেরত চেয়ে দরবার করার কথাও জানান অনিমেষ। এমন অভিযোগ প্রকাশ্যে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে ‘বাংলা-বিরোধী’ মডেলের আসল রূপ বলে উল্লেখ করেছে। চিঠির ছবি পোস্ট করে তৃণমূল লিখছে, ‘‘শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটাই বিজেপি এবং তাদের ‘বাংলা-বিরোধী’ মডেলের আসল রূপ: টাকা লুঠ করো এবং তারপর নিজেদের লোকেদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করো।
পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি কর্মী এবং আরএসএস সদস্য অনিমেশ গিরি বিজেপির রাজ্য সভাপতির কাছে যে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন, তাতে এক সুসংগঠিত প্রতারণার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
উপকার করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে এটি এমন কোনও নিছক ঘটনা নয়; বরং দেখে মনে হচ্ছে, এটি একেবারে শীর্ষ স্তর থেকে পরিচালিত ‘টাকার বিনিময়ে চাকরি’র এক পুরোদস্তুর চক্র। সেই চিঠি অনুযায়ী, রেল, প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাংসদ কোটায় সরকারি বা সরকার-সংশ্লিষ্ট চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী নাকি ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন।
অভিযোগে ভিত্তিতে বারবার আশ্বাস দেওয়া এবং কাজ না হওয়ায় সামান্য কিছু টাকা ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও, আসল সত্য হল—টাকার সিংহভাগ, অর্থাৎ ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা এখনও ফেরত দেওয়া হয়নি।
আরও উদ্বেগের বিষয় হল, চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেদের হকের টাকা ফেরত চাওয়ার পর অভিযোগকারী ও তাঁর পরিবার এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যখন নিজের টাকা ফেরত চাইলেই জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তখন তা থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে বাংলায় নিজেদের দলের অন্দরে বিজেপি কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।
এটি কেবল দুর্নীতি নয়। জবাবদিহি না দিয়ে, বিনা বাধায় ভীতি প্রদর্শন করে এমন একটি দলীয় কাঠামো তৈরি করা, যা শোষিতদের কণ্ঠরোধ করে অভিযুক্তদের সুরক্ষা জোগায়। যখন খোদ বিরোধী দলনেতা নিজের দলের কর্মীদের থেকেই কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও দলের অভ্যন্তরে কোনও প্রশ্নের মুখে পড়েন না, তখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁরা কী ধরনের আচরণ করতে পারেন, তা সহজেই অনুমান করা যায়।’’