‘হাত’ ধরলেও সঙ্গে নেই কর্মী-সমর্থকরা, বিধনাসভায় যাওয়া হবে কি মৌসমের?
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২২:০০: নতুন বছর পড়তেই দলবদল দেখেছে বঙ্গ রাজনীতি। রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছেড়ে পুরনো দল কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন মৌসম বেনজির নূর। উল্লেখ্য, রাজ্যসভায় মৌসমের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের এপ্রিলে। মাত্র চার মাস আগে তাঁর দল ছাড়ার অর্থ, তিনি সম্ভবত আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে মালদহের কোনও একটি আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন। বাংলার কংগ্রেস কর্মীদের কাছে ‘বরকত সাহেব’ আবেগের নাম। মৌসম, গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নি। মালদহের ভূমিকন্যা। মালদহ, মুর্শিদাবাদ একদা কংগ্রেসের গড় ছিল। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত দুই জেলায় আজও কংগ্রেসের পকেট ভোট রয়েছে। ‘বরকত’ আবেগ এখনও কাজ করে কংগ্রেস কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে, এমনকি আম জনতার মধ্যেও গনি খান চৌধুরীর গ্রহণযোগ্যতা বিদ্যমান। এই সব কিছুকে পাথেয় করে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মৌসম।
সুজাপুর কেন্দ্র থেকে তিনি লড়তে পারেন, এমনই শোনা যাচ্ছে কংগ্রেসের অন্দরে। গনি খানের বোন রুবি নূর দীর্ঘদিন সুজাপুরের বিধায়ক ছিলেন। রুবি নূরের কন্যা মৌসম। মায়ের মৃত্যুর পর মৌসম সুজাপুরের বিধায়ক হন। ফলে তিনি এবারেও চেনা মাঠে লড়তে চাইছেন। কিন্তু কংগ্রেসের কর্মীরা কি মৌসমের সঙ্গে আছেন? আম জনতা কি তাঁর সঙ্গে থাকবেন নির্বাচনী লড়াইয়ে?
২০০৯ এবং ২০১৪ সালে পর পর দু’বার তাঁকে জিতিয়ে লোকসভায় পাঠিয়েছেন মালদহ উত্তরের মানুষ, মূলত কংগ্রেসের কর্মী, সমর্থকেরা। তাঁদের বিশ্বাস ভেঙেছেন মৌসম। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিলেন তিনি। ওই বছর লোকসভা ভোটে তৃণমূল তাঁকে মালদহ উত্তর আসনে টিকিট দেয়। তিনি হেরে যান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৌসমকে রাজ্যসভায় পাঠান ২০২০ সালে। সাত বছর পর তৃণমূল থেকে কংগ্রেসে ফিরে গিয়েছেন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। বার বার যে দল বদল করে, তাঁকে কি বিশ্বাস করেন আম ভোটার?
মালদহের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট জানান দিচ্ছে, মৌসম বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছেন। কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা একেবারে তলানিতে। ‘বরকত’ আবেগ তাঁকে টেনে তুলতে পারবে না, এমন মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। মৌসমের কংগ্রেসে যোগদানের পরই মালদার বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন ধরেছে। ইতিমধ্যে প্রায় সাত-আটশো কংগ্রেসকর্মী দল বদলে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।
পাশাপাশি সুজাপুর নিয়ে পরিবারিক কোন্দল শুরু হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মালদহ দক্ষিণের বর্তমান কংগ্রেস সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরীর স্ত্রী লিজু ওরফে সৈয়দা সালেহা নূর সুজাপুর থেকে ভোটে লড়তে চাইছেন। তিনি কানাডার নাগরিক, এতদিন ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। অতিসম্প্রতি নাগরিকত্ব বদলের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন তিনি। সুজাপুরের ভোটার হয়ে টিকিট পাওয়ার রাস্তা পাকা করতে চাইছেন তিনি, এমন খবর। ফলে সুজাপুরের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের মধ্যে প্রতিযোগিতায় পড়তে চলেছেন মৌসম। ডালুর পুত্রবধূ কিছুটা হলেও এগিয়ে আছেন, কারণ তাঁর দলবদলের অতীত ইতিহাস নেই।
মৌসমের ক্ষেত্রে আরও একটি মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে। বার বার জনপ্রতিনিধি হয়েও তিনি মালদহের জন্য কিছুই করেননি। গঙ্গা ভাঙনের মতো সমস্যা আজও মালদহের জ্বলন্ত সমস্যা, মৌসম তার সমাধানে কোনও উদ্যোগ নেননি। রাজনৈতিক কর্মীদের অভিযোগ, মৌসমকে তাঁরা পাশে পান না। ভোটের সময়তেও তাঁকে প্রচার না-দেখা যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
দৃষ্টিভঙ্গির সমীক্ষাতেও বারংবার উঠে এসেছে, সুজাপুরে সহজ জয় পেতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের। মৌসমের দল বদলের কোনও প্রভাব পড়বে না ভোটবাক্সে। তবে আসন্ন ভোটে কংগ্রেস সুজাপুর কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। তৃণমূল কংগ্রেস ৫৭ শতাংশ ভোট পেতে পারে। বিজেপির ভাগ্যে জুটতে পারে ৭ শতাংশ ভোট। কংগ্রেসের ঝুলিতে যেতে পারে ২৪ শতাংশ ভোট। বামেরা পেতে পারে চার শতাংশ ভোট। আট শতাংশ ভোট যেতে পারে অন্যান্য ছোটখাটো পার্টির দখলে। সাফ কথায়, মৌসমের দলবদলেও পাল্টাবে না ভোটের মানচিত্র। সুজাপুরে আগামী ভোটেও জোড়াফুল ফুটছে।