কোচবিহার ক্যানিবলিজম! মানুষের মাংস খেতেই খুন শ্মশানবাসী?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১০:৪৫: যেন হাড়হিম করা থ্রিলার! বা তার চেয়েও খানিক বেশি। কোচবিহারের দিনহাটার সাহেবগঞ্জ থানার কুর্শাহাটে নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটল। নরমাংসের লোভে এক শ্মশানবাসী ভবঘুরেকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশ ‘নরমাংস খাদক’কে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম ফিরদৌস আলম। এ ঘটনায় গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
গত শনিবার দিনহাটার কুরসার হাটে শ্মশান থেকে উদ্ধার হয় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ। দেহটি দেখে পুলিশের অনুমান হয়, তাঁকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। মৃতের গলায় এবং ঘাড়ে ক্ষতচিহ্ন ছিল। পুলিশের অনুমান, নরমাংস খাওয়ার জন্য ওই ব্যক্তিকে খুন করে থাকতে পারেন ফিরদৌস। খুনের পর তিনি মৃতদেহ বাড়ির পাশের কলতলায় পরিষ্কার করেন বলেও জানতে পারে পুলিশ। তাঁকে জেরা করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মৃতের নামপরিচয় কিছু জানা যায়নি। এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, মৃত ওই ব্যক্তি প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে শ্মশানে থাকতেন। তিনি সম্ভবত মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। পুলিশের বক্তব্য, খুব নৃশংস ভাবে হত্যাটি করা হয়েছে। এক জন অজ্ঞাতপরিচয়, মানসিক ভারসাম্যহীনকে কেউ খুব করবে কেন, পাচ্ছিলেন না তদন্তকারীরা। খুনের নেপথ্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি-না, তা জানা যাচ্ছিল না।
সূত্রের মাধ্যমে পুলিশ খবর পায় ফিরদৌস ঘটনাটি ঘটিয়েছে। অভিযুক্তকে পাকড়াও করে পুলিশ। প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ অধিকারিকের কথায়, আশ্চর্যের বিষয়, হত্যাকাণ্ডের পিছনে কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। কেবল খুন করার জন্য খুনটি করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষীর মাধ্যমে উঠে এসেছে, হত্যার পরে দেহটি বাড়ির পাশে নিয়ে আসেন ফিরদৌস। কলতলায় মৃতদেহটি পরিষ্কার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মৃতদেহটি খাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল তাঁর। পুলিশের মতে, অত্যন্ত বিরল একটি অপরাধ।