BGB ফেরালেও ওড়িশা বাঙালি পরিবারকে আবারও ‘পুশব্যাক’ বাংলাদেশে
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১১:৫০: দেশে ফিরেও ঠাঁই হল না। আবারও বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হল বিজেপি শাসিত ওড়িশার বাসিন্দা বাঙালি পরিবারকে। পরিবারের সদস্যরা যে ভারতীয়, সে পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর ওড়িশাবাসী ১৪ জন বাঙালিকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে দিয়েছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তাঁদের ফের অসম দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
যেন বীরভূমের সোনালি, সুইটি বা অসমের নলপুরের সাকিনা বিবির ঘটনার পুনরাবৃত্তি। একদা দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার মৌসুনি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ওই পরিবারের পূর্বপুরুষরা জীবিকার সন্ধানে ওড়িশায় চলে গিয়েছিলেন। গত ছয়-সাত দশক যাবৎ স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে ওড়িশায় থাকা ওই বাঙালি পরিবারকে বিগত বছরের ২৫ ডিসেম্বর নদীয়ার গেদে সীমান্ত দিয়ে জোর করে বাংলাদেশে পাঠায় বিএসএফ। পরিবারের কর্তা শেখ জব্বর সহ জগৎসিংপুর জেলার এরসামা থানার অম্বিকা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ওই পরিবারের ১৪ জন সদস্যকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
তারপর গত ২৮ ডিসেম্বর চুয়াডাঙা সীমান্তে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর ওই ‘ভারতীয়’ পরিবারের সদস্যদের হস্তান্তর করে দিয়েছিল বিজিবি। পরিবারের আত্মীয়দের অভিযোগ, ওড়িশায় না-পাঠিয়ে অসম সীমান্ত দিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করে দিয়েছে বিএসএফ। পরিবারের ১৪ জন সদস্যের মধ্যে ন’জনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা গিয়েছে। তাঁরা এখন সিলেটের এক গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। বাকি পাঁচজন নিখোঁজ। তাঁরা কোথায় আছেন, কোনও খবর নেই। পরিবারের কর্তা বৃদ্ধ শেখ জব্বর সহ বাকিরা কী উপায়ে দেশে ফিরবেন, সেটা নিয়েই এখন চিন্তিত সবাই। বিএসএফ; পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে কেন কোনও খোঁজ না-নিয়ে ফের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিল, তা ঘিরে প্রশ্ন উঠছে।
জানা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি ওড়িশার জগৎসিংপুর জেলার এরসামা থানার অম্বিকা গ্রামের বাসিন্দা ওই পরিবারকে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক করে পুলিশ। আধার, ভোটার, প্যান, ওড়িশা প্রশাসনের দেওয়া জন্ম শংসাপত্র, এমনকি ৭০ বছর আগের নামখানা ব্লকের জমির দলিল দেখানো সত্ত্বেও নিস্তার মেলেনি সংখ্যালঘু পরিবারের। দেড়মাস জেলে রাখার পর শীতের রাতে মহিলা, শিশু ও নবতিপর বৃদ্ধা সহ গোটা পরিবারকে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়। অভিযোগ, বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার আগেই কেড়ে নেওয়া হয় তাঁদের আধার ও ভোটার কার্ড। ২৬ ডিসেম্বর সকালে তাঁদের পাকড়াও করে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডস (বিজিবি)। বাংলাদেশের কিছু সংবাদ মাধ্যমের দাবি, ওই ১৪ জন ভারতীয় নিশ্চিত হওয়ার পর ২৮ ডিসেম্বর কুষ্ঠিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত পার করিয়ে তাঁদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছে বিজিবি। জানা যাচ্ছে, ২৮ ডিসেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল ১৪ জনকে। তারপর তিনটি দলে ভাগ করা হয় তাঁদের। দুটি দলে ছিলেন পাঁচজন করে এবং একটিতে রাখা হয় চারজনকে। ওই সীমান্তের তিনটি ভিন্ন জায়গা দিয়ে বিএসএফের হাতে হস্তান্তর করা হয় ১৪ জনকে। ভাগ্যক্রমে পরিবারের ন’জন একত্রিত হলেও, বাকি পাঁচজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের বাকি ন’জনকে এরপরই অসমে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশ পুশব্যাক করা হয়।
মৌসুনি গ্রামে থাকা ওই পরিবারের আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁদের বক্তব্য, পরিবারের সবার যাবতীয় ভারতীয় নথিপত্র রয়েছে। জমির অনেক পুরানো দলিলও রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও জোর করে ওড়িশা সরকার তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল। খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। ন’জনের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও, পাঁচ জনের এখনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে ওই পরিবারের আত্মীয়-পরিজনরা।