প্রথা ভেঙে রবিতেই অষ্টম বাজেট পেশ! রাজ্যের বিধানসভা ভোটের মুখে কি বিশেষ চমক দিতে চায় কেন্দ্র?
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:০০: সমস্ত জল্পনার অবসান। প্রথা মেনেই আগামী ১ ফেব্রুয়ারি পেশ হতে চলেছে কেন্দ্রীয় বাজেট (Union budget)। চলতি বছর ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার অর্থাৎ ছুটির দিন হলেও, বাজেট পেশের তারিখে কোনও বদল আনা হচ্ছে না। বুধবার রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন সংসদ বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছে। ভারতীয় সংসদে এই ঘটনা অত্যন্ত বিরল, যেখানে রবিবার বাজেট পেশের জন্য বিশেষ অধিবেশন বসতে চলেছে।
সাধারণত শনি বা রবিবার সংসদের অধিবেশন বন্ধ থাকে। কিন্তু মোদী সরকার বাজেট পেশের নির্দিষ্ট তারিখ বজায় রাখতে মরিয়া। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে পর্যন্ত ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা রীতি মেনে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন বাজেট পেশ করা হত। কিন্তু ২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি সেই প্রথা ভেঙে ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশের নতুন রীতি চালু করেন। মূলত নতুন অর্থবর্ষ (এপ্রিল) থেকে যাতে বাজেটের প্রস্তাবগুলি কার্যকর করা সহজ হয়, সেই লক্ষ্যেই এই বদল আনা হয়েছিল। সেই থেকে ১ ফেব্রুয়ারি তারিখটি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সেই রীতি মেনেই এবার রবিবার হওয়া সত্ত্বেও ১ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় বাজেট পেশ করবেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ (Nirmala Sitharaman)।
সংসদের ইতিহাসে রবিবার অধিবেশন বসা একটি বিরল ঘটনা। এর আগে ২০১২ সালে সংসদের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১৩ মে (রবিবার) বিশেষ অধিবেশন বসেছিল। এছাড়াও ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির আগে এবং ছুটির দিনেও বিশেষ প্রয়োজনে সংসদ বসার নজির রয়েছে। দীর্ঘ ৬ বছর পর ফের রবিবার সরগরম হতে চলেছে সংসদের অন্দমহল।
সংসদীয় কমিটি সূত্রে খবর, আগামী ২৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মধ্য দিয়ে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। ওইদিন যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। তার পরের দিন, অর্থাৎ ২৯ জানুয়ারি পেশ করা হবে দেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বা ‘ইকোনমিক সার্ভে’ রিপোর্ট। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি পেশ হবে পূর্ণাঙ্গ বাজেট।
এবারের বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তুঙ্গে। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি নির্মলা সীতারমণের টানা অষ্টম বাজেট পেশ। দিল্লি, পশ্চিমবাংলা-সহ একাধিক রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বাজেটে বিশেষ বার্তা থাকছে কি না, তা নিয়েই এখন জল্পনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে এবারের বাজেটে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য বিশেষ ছাড় বা জনমোহিনী প্রকল্পের ঘোষণা থাকতে পারে।