ভোটের কৌশল চুরি করতেই IPAC-র দপ্তরে ইডি হানা! BJP-র ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’-র অভিযোগে বিক্ষোভ তৃণমূলের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:১৭: রাজ্যে ফের উত্তাল রাজনীতি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) তল্লাশি অভিযান ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), হাতে একটি সবুজ ফাইল নিয়ে বেরোতে দেখা যায় তাঁকে। এদিকে অভিযানের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে বিক্ষোভে সামিল হয় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। শাসক দলের অভিযোগ, বিজেপির (BJP) ইশারায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই অভিযান। একই দিনে ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যুতেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে ইডি আধিকারিকরা আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেন। সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দপ্তরেও চলে তল্লাশি। ইডি-র এই অভিযানের খবর পেতেই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাপ্রবাহ। প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীনই সশরীরে সেখানে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁকে ওই বাড়ি থেকে হাতে একটি ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে বেরোতে দেখা যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সরাসরি চলে যান সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দপ্তরে।
এদিকে, ইডি-র (ED) এই হানাকে কেন্দ্র করে রাজপথে নেমে প্রতিবাদ শুরু করে তৃণমূল (TMC)। হাজরা মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন দলের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের হাতে ছিল পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড। তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশেই ইডি-কে ব্যবহার করে হেনস্থা করা হচ্ছে। দলের নির্বাচনী কৌশল, প্রার্থী সংক্রান্ত নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কাগজপত্র হাতিয়ে নেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে দাবি শাসক দলের।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আইপ্যাক দপ্তরে র সামনে একটি সাদা স্করপিও গাড়ির ভিতরে একাধিক ফাইল নজরে আসে। গাড়ির কাচ তোলা থাকলেও ভেতর থেকে নীল ও হলুদ রঙের ফাইলের স্তূপ এবং গুচ্ছ গুচ্ছ নথি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। ফাইলগুলির গায়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে র নাম লেখা ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও ওই গাড়িতে থাকা ফাইলগুলিতে ঠিক কী ধরনের নথিপত্র ছিল, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে গাড়িটিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য রাজ্য পুলিশের তরফে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। মোতায়েন করা হয় প্রচুর সংখ্যক পুরুষ ও মহিলা পুলিশকর্মী।
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘‘এই ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার (Nasty Home Minister) দেশকে রক্ষা করতে পারেন না। আমার দলের সব তথ্য বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। যদি আমরা বিজেপির (BJP) অফিসে তল্লাশি চালাই, তা হলে কী হবে?’’
এদিন শুধুমাত্র ইডি অভিযানই নয়, ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, কমিশনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘২ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। কাউকে কিছু না জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সব করা হচ্ছে।’’