‘হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব, নয় গদি ছাড়ো’, মতুয়াগড় তাহেরপুরে BJP-কে তোপ অভিষেকের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:৩০: ২৬শের নির্বাচনের আগে নদীয়ার তাহেরপুরে ‘রণ সংকল্প সভা’ থেকে বিজেপিকে (BJP) সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক, নাগরিকত্ব ইস্যু থেকে শুরু করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার- প্রতিটি ইস্যুতে কেন্দ্রের মোদী সরকার (Modi government) এবং স্থানীয় বিজেপি (BJP) নেতৃত্বকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিন, নয় মোদী গদি ছাড়ুন। অমিত শাহ, শান্তনু ঠাকুর গদি ছাড়ো।”
এদিন অভিষেকের ভাষণে প্রধান হাতিয়ার ছিল মতুয়া ভোট (Matua Vote) ও সিএএ (CAA) প্রসঙ্গ। শান্তনু ঠাকুর এবং বিজেপি সরকারের নাগরিকত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “মতুয়া ভাইদের বলছে অবৈধ। আমরা অবৈধ, মতুয়া অবৈধ আর মোদী-শান্তনু ঠাকুর বৈধ? যাদের ভোটে আপনারা জিতেছেন, নোট বন্দির নামে তাদের লাইনে দাঁড় করিয়েছিলেন, ১০ বছর বাদে ফের ভোটবন্দির নামে লাইনে দাঁড় করিয়েছেন।”
প্রয়াত বড়মা বীণাপাণি দেবীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিজেপিকে বিঁধে বলেন, “বড়মা বেঁচে থাকা কালীন মোদী একবারও খোঁজ নিয়েছিলেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু খোঁজ রাখতেন। বড়মা বেঁচে থাকলে তিনি কি বিজেপিকে সমর্থন করতেন?” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, শান্তনু ঠাকুর নিজেই বলছেন এক লক্ষ মতুয়া ভোট বাদ যাবে। সব যদি অবৈধ হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও অবৈধ, কারণ তাঁদেরও তো মানুষের ভোটেই নির্বাচিত হতে হয়েছে।
বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরির গুরুতর অভিযোগ আনেন অভিষেক। মঞ্চে সোমনাথ লাহিড়ী, জালাল মন্ডল এবং বিমল অধিকারী নামে তিন ব্যক্তিকে হাজির করে তিনি দেখান, নির্বাচন কমিশনের খাতায় এঁদের ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন ছু মন্তর দিয়ে এদের ভ্যানিশ করে দিয়েছে। এরকম ১০০-র উপর কেস রয়েছে। আগে মানুষ সরকার বাছতো, এখন সরকার মানুষ বাছছে কে ভোট দেবে।” ইডি-সিবিআই দিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি।
বিজেপি নেতাদের বাংলা সংস্কৃতি নিয়ে অজ্ঞতাকেও হাতিয়ার করেন অভিষেক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং পঞ্চানন বর্মার নাম ও জন্মস্থান নিয়ে বিজেপি নেতাদের ভুল মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি, গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে এক চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, “ওরা একজন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারছে, এটাই কি বাংলার সংস্কৃতি? গীতায় বলা হয়েছে জীবে প্রেম করে যেই জন… এমনকি পিঁপড়ের মধ্যেও ভগবান বিরাজমান। শান্তনু ঠাকুরকে জিজ্ঞেস করুন, উনি আদৌ গীতা পড়েছেন কিনা।” অমর্ত্য সেন, মহম্মদের শামি বা দীপক অধিকারীর মতো ব্যক্তিত্বদের বিজেপি ‘অনুপ্রবেশকারী’ মনে করে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রানাঘাট-বনগাঁর রাস্তাঘাট করেছেন, মোদী করেননি। লক্ষ্মীর ভান্ডার দিচ্ছেন মমতা, এতে মোদী-শাহর ১০ পয়সার অবদান নেই।” লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিজেপি নেতার ফতোয়ার জবাবে তিনি বলেন, “মায়েদের বন্দি করে রাখো, যেদিন ভোট হবে ব্যালট বক্স খুললে বুঝবে কে কাকে বন্দি করছে।”
নদীয়া জেলার উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “তোমাদের কাছে সব আছে মানুষ নেই। আমাদের কাছে কিছু নেই, মানুষ আছে। খেলা হবে ১০-০ গোলে।” এই ভোট বিজেপিকে শিক্ষা দেওয়ার ভোট, তাহেরপুরের মাটি থেকে এভাবেই দলের কর্মী-সমর্থকদের উজ্জীবিত করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।