ভাঙা পা নিয়েই SIR শুনানিতে প্রৌঢ়া! ‘চূড়ান্ত হয়রানি’র অভিযোগ আলিপুরদুয়ারে

January 3, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৯:০৪:  সিড়ি থেকে পড়ে দুটি পা-ই ভেঙেছে। চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ, নড়াচড়া করা যাবে না, থাকতে হবে পূর্ণ বিশ্রামে। কিন্তু প্রশাসনিক নির্দেশের কাছে হার মানল শারীরিক অসুস্থতাও। এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়ার শুনানির নোটিস পেয়ে ভাঙা পা নিয়েই কেন্দ্রে ছুটতে হল এক প্রৌঢ়াকে। ঘটনাটি ঘটেছে আলিপুরদুয়ারে। এই ঘটনায় প্রশাসনিক অসংবেদনশীলতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই ভোটার। তাঁর অভিযোগ, বৈধ নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

জানা গিয়েছে, চরম দুর্ভোগের শিকার ওই মহিলার নাম শিখা ভৌমিক (Shikha Bhowmik)। তিনি আলিপুরদুয়ার (Alipurduar) শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং আলিপুরদুয়ার বিধানসভার ২১৫ নম্বর বুথের ভোটার। শুক্রবার ছিল তাঁর শুনানির দিন। কিন্তু পায়ে প্লাস্টার নিয়ে হাঁটাচলা করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব ছিল। অগত্যা পরিবারের লোকেরা একটি বড় গাড়ি ভাড়া করে তাঁকে আলিপুরদুয়ারের ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। স্বামী ও সন্তানের কাঁধে ভর দিয়ে তিনি কোনওরকমে সেখানে পৌঁছন। তবে স্টেডিয়ামের সিঁড়ি ভেঙে কেন্দ্রে ঢোকা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা অবশ্য কেন্দ্রের বাইরে এসে গাড়ির কাছেই তাঁর শুনানি সম্পন্ন করেন।

কিন্তু কেন এই তলব? পরিবার সূত্রে খবর, তাঁরা আগে শোভাগঞ্জ গ্রামীণ এলাকায় থাকতেন এবং সেখানেই নিয়মিত ভোট দিতেন। তাঁদের কাছে ১৯৯৫ সালের ভোটার কার্ড সহ ২০০২ সালের আগের নথিপত্রও রয়েছে। অথচ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় শিখাদেবীর নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেই ‘ত্রুটি’র কারণেই বিএলও-র মাধ্যমে নোটিস পাঠিয়ে সপরিবারে তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়।

ভাঙা পা নিয়ে শুনানিতে হাজিরা দিতে এসে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ শিখাদেবী। তিনি বলেন, “আমি দেশের বৈধ নাগরিক, সেই তথ্য কি বাবুদের কাছে নেই? আমি চূড়ান্ত হয়রানির শিকার। ওঁদের কাছে কি কাগজপত্র নেই? আমরা এদেশের নাগরিক কিনা, তা কি ওঁরা জানতে পারেন না? আমাকে দুই পা ভাঙা নিয়ে এখানে এসে কাগজ জমা দিতে হল। এভাবে আমাকে এখানে টেনে আনা হল।”

শিখাদেবীর স্বামী সন্দীপ ভৌমিক বলেন, “আমরা আগে শোভাগঞ্জ গ্রামীণ এলাকায় থাকতাম। সেখানে ভোট দিয়েছি। কিন্তু সেখানকার ২০০২-এর তালিকায় নাম খুঁজে পাইনি। ১৯৯৫ সালের ভোটার কার্ড আছে। ২০০২ সালের আগে নামও রয়েছে। তবুও আমাদের হেয়ারিংয়ে ডেকেছে। আমার স্ত্রী, আমাকে ও ছেলেকে- তিনজনকেই শুনানিতে ডাকা হয়েছে। স্ত্রীর পা ভেঙে যাওয়ায় গাড়ি ভাড়া করে শুনানি কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হয়েছে। আমরা আতঙ্কিত।”

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen