শাহ-সাক্ষাতে কাটল ‘বনবাস’! শুভেন্দুর ‘একাধিপত্য’ রুখতেই কি ফের সক্রিয় হচ্ছেন দিলীপ?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:৩৩: দীর্ঘ আট মাস ধরে তিনি ছিলেন কার্যত ‘ব্রাত্য’। দীঘার জগন্নাথ মন্দির যাত্রার পর থেকে দলের মূল স্রোত থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। দলীয় কর্মসূচিতে ডাক না পাওয়া, কোণঠাসা অবস্থা- সব মিলিয়ে তাঁর দলবদল নিয়েও জল্পনা কম হয়নি। কিন্তু বছরের শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে বৈঠকের পরেই বদলে গেল পুরো চিত্রনাট্য। বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের ‘সদাপ্রসন্ন’ মেজাজে মাঠে নামতে চলেছেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ।
বিজেপি অন্দরের খবর, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে তাঁর ‘জুটি’ বাঁধার পরিকল্পনা করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সব ঠিক থাকলে চলতি মাসেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে একগুচ্ছ যৌথ কর্মসূচিতে দেখা যাবে দিলীপ-শমীক জুটিকে।
দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ৬ জানুয়ারি নদীয়ার রানাঘাট এবং ৭ জানুয়ারি ব্যারাকপুরে জনসভা করতে চলেছে বিজেপি। এই দুই সভাতেই শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) সঙ্গে মঞ্চে দেখা যেতে পারে দিলীপ ঘোষকে। সেখানে তিনি বক্তাও হতে পারেন। দক্ষিণবঙ্গের পর উত্তরবঙ্গেও নজর রয়েছে পদ্মশিবিরের। আগামী ৮, ৯ এবং ১০ জানুয়ারি যথাক্রমে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে সভা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানেও বর্তমান ও প্রাক্তন সভাপতির মেলবন্ধন দেখার অপেক্ষায় দলীয় কর্মীরা।
শাহের সঙ্গে বৈঠকের পর দিলীপের এই ‘প্রত্যাবর্তনে’ স্বাভাবিকভাবেই উজ্জীবিত তাঁর অনুগামীরা। তাঁদের কথায়, গত কয়েক মাস ধরে দিলীপ ঘোষকে ঘিরে যে ভাটার টান দেখা গিয়েছিল, তা এখন উধাও। নিউটাউনের বাসভবনে ফের বাড়ছে নেতাকর্মীদের আনাগোনা, ঘনঘন বাজছে মোবাইল। ইকো পার্কে প্রাতর্ভ্রমণে বেরোলে তাঁকে ঘিরে ফের ভিড় জমছে সাধারণ মানুষের, যা মাঝের সময়ে অনেকটাই কমে গিয়েছিল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপকে হঠাৎ সক্রিয় করার পিছনে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। দলের একাংশের ধারণা, রাজ্য বিজেপিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari) ‘একাধিপত্য’ বা প্রভাবের ভারসাম্য বজায় রাখতেই ফের দিলীপকে ময়দানে নামানো হচ্ছে। যদিও শুভেন্দুর সঙ্গে দিলীপের সম্পর্কের সমীকরণের কথা মাথায় রেখে এই পরিকল্পনা কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে সন্দিহান কেউ কেউ।
সূত্রের খবর, আপাতত ঠিক হয়েছে, শুধু বড় জনসভাই নয়, বছরের শুরুতে স্কুলে পরীক্ষার মরসুম চলায় মাইক বাজিয়ে সভার বদলে ঘরোয়া বৈঠকেও জোর দেবেন দিলীপ।