ভোটার তালিকায় নাম নেই, দাদুর ‘তাম্রপত্র’ নিয়ে শুনানিতে স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবার

January 10, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:৩০: দেশ স্বাধীন করার লড়াইতে অসামান্য অবদানের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হাত থেকে নিয়েছিলেন ‘তাম্রপত্র’। অথচ আজ সেই স্বাধীন দেশেই নিজের বংশপরিচয় ও ভোটাধিকার প্রমাণ করতে সেই তাম্রপত্র বগলে নিয়ে সরকারি দপ্তরের দরজায় ঘুরতে হচ্ছে স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারকে। শুক্রবার সিউড়ি ১ ব্লকের কড়িধ্যা পঞ্চায়েতের সেন পাড়ার মুখোপাধ্যায় পরিবারের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ব্লক চত্বরে।

স্বাধীনতা সংগ্রামী জীবনানন্দ মুখোপাধ্যায়ের পরিবার কড়িধ্যা এলাকায় যথেষ্ট সম্মানীয়। কিন্তু ভোটার তালিকার জটিলতায় সেই পরিবারের সদস্যদেরই এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ। পরিবারের দাবি, প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় পরিবারের চার সদস্যের নাম থাকলেও, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার (Voter list) সঙ্গে তাঁদের নামের কোনো লিংক বা সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার সিউড়ি ১ নম্বর ব্লক অফিসে ভোটার তালিকার শুনানিতে হাজির হন জীবনানন্দ বাবুর নাতি অরিজিৎ, শুভজিৎ, নাতনি প্রিয়াঙ্কা এবং তাঁদের মা কল্পনা মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিল বাবার চাকরির পে-স্লিপ এবং দাদুর সেই গর্বের তাম্রপত্র। পরিবারের সদস্য অরিজিৎ মুখোপাধ্যায় জানান, ‘‘আমরা সেন পাড়ার আদি বাসিন্দা। বাবা সুরজিৎ মুখোপাধ্যায় সরকারি কর্মী ছিলেন। তিনি ২০০২ সালেও ভোট দিয়েছেন। আজ বাবা নেই, কিন্তু মা, আমি, ভাই ও বোনের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার বা লিংক না থাকার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না।’’

অথচ নির্বাচনী তথ্য বলছে, কড়িধ্যা ২০৯ নম্বর বুথে কল্পনা মুখোপাধ্যায় অতীতে স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত ভোট দিয়েছেন। পশ্চিম কড়িধ্যার স্কুলে একসঙ্গে ভোট দিতে যাওয়ার স্মৃতি এখনও টাটকা। পরিবারের আক্ষেপ, স্বাধীন দেশে এমন হয়রানি মেনে নেওয়া কঠিন। প্রিয়াঙ্কা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বাবার কাছে দাদুর স্বাধীনতা সংগ্রামের গল্প শুনেছি। দেশ স্বাধীন করতে দাদু লড়াই করেছিলেন। আর সেই স্বাধীন দেশের নির্বাচন কমিশন আমাদের নাম কেটে দিল! এটা ভাবতেই পারছি না।’’

শুক্রবার সকাল থেকে কাজ কামাই করে ব্লকের গাছতলায় অভুক্ত অবস্থায় বসেছিলেন তাঁরা। বিকেল সাড়ে তিনটে বেজে গেলেও শুনানির ডাক না আসায় ক্ষোভ উগরে দেন শুভজিৎ ও অরিজিৎ। তাঁদের প্রশ্ন, সমস্ত নথি থাকা সত্ত্বেও কেন এই হয়রানি?

এ বিষয়ে ২০৯ নম্বর বুথের বিএলও প্রদোষ সেন জানান, ‘‘২০০২ সালের তালিকায় ওনাদের নাম নেই, তবে বর্তমান খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নির্দেশিত ১১ দফা পরিচয়পত্র যাচাই করে আমরা রিপোর্ট পাঠিয়ে দেব।’’ অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের কড়িধ্যা অঞ্চল সভাপতি দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘‘যারা এলাকায় সম্মানিত ও আদর্শ স্থানীয়, তাঁদের পরিচয় জানতে চেয়ে শিবিরে ডেকে এভাবে হয়রানি করছে কমিশন। স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারও সেই হয়রানি থেকে বাদ গেল না।’’

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen