SIR শুনানির নোটিসেই ‘দেশান্তরি’ হওয়ার ভয়? রাজ্যে প্রাণ গেল দুই বৃদ্ধের

January 14, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:৩৫: নাগরিকত্ব প্রমাণ ও নথিপত্র যাচাইয়ের (SIR) জটিলতার মাঝেই রাজ্যে দুই বৃদ্ধের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল। উত্তর ২৪ পরগনার গুমায় ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে মতুয়া সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধের। পরিবারের দাবি, শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর ‘আবার বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে’- এই ভয়েই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুরে শুনানির পর বাড়ি ফেরার পথে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও এক ব্যক্তির।

পুলিশ সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার মৃত বৃদ্ধের নাম নিখিলচন্দ্র দাস (৭০)। তিনি অশোকনগরের গুমা শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। মঙ্গলবার রাতে গুমা স্টেশনের কাছে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর জখম হন তিনি। স্থানীয়রা ও রেল পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

নিখিলবাবুর পরিবারের দাবি, বুধবার তাঁর এসআইআর (SIR)-এর শুনানি ছিল। সেই নোটিস হাতে পাওয়ার পর থেকেই চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘‘উনি সব সময় ভাবতেন, আবার না বাংলাদেশ ফিরে যেতে হয়। গত কয়েকদিন ধরেই উনি আতঙ্কে ছিলেন। নিজের কাছে থাকা নথিপত্র নিয়ে প্রতিবেশীদের দরজায় দরজায় ঘুরছিলেন। এমনকি, স্থানীয় বিজেপি সদস্যের কাছেও কাগজ দেখাতে গিয়েছিলেন।’’ পরিবারের অভিযোগ, এই আতঙ্ক থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

যদিও এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য বিউটি বারুই বলেন, ‘‘ওঁদের পারিবারিক একটা অশান্তি ছিল। দু’দিন আগে ছেলের সঙ্গে ভীষণ ঝামেলা হয়। সাংসারিক চাপ ছিল। তবে ঠিক কী কারণে উনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা পুলিশি তদন্তেই স্পষ্ট হবে।’’

অন্যদিকে, এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। তিনি বলেন, ‘‘মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের সবথেকে বেশি ক্ষতি হচ্ছে। মানুষ এই হয়রানি মেনে নিতে পারছে না। নির্বাচন কমিশন কি এই জীবনগুলো ফিরিয়ে দিতে পারবে? আমরা পরিবারের পাশে আছি।’’

গুমার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকে আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। মৃত ব্যক্তির নাম ফয়েজুদ্দিন সরকার (৬৫)। তিনি তপন ব্লকের চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জামলাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বিকেলে তপন ব্লক প্রশাসনিক ভবনে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, শুনানি শেষে বাড়ি ফেরার পথেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে তপন ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে গঙ্গারামপুর মহকুমার কালদিঘি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen