জনতাকে উসকানি, গাছে ঝুলিয়ে অগ্নিসংযোগ! ময়মনসিংহে দীপু হত্যায় গ্রেপ্তার মূল ষড়যন্ত্রী শিক্ষক

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৮:৫০: পেশায় তিনি শিক্ষক, সমাজ গড়ার কারিগর। কিন্তু অভিযোগ, সেই শিক্ষকের মাথাতেই ছিল খুনের নৃশংস পরিকল্পনা। প্রথমে জনতাকে উসকানি দেওয়া, তারপর পরিকল্পিতভাবে যুবককে সেই ক্ষুব্ধ জনতার হাতে তুলে দেওয়া, সবটাই হয়েছে তাঁর ইশারায়। বাংলাদেশের (Bangladesh) ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস হত্যাকাণ্ডে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হলো মূল অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষক ইয়াসিন আরাফাতকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াসিন আরাফাতকে (Yassin Arafat) গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। তদন্তে উঠে এসেছে, এলাকায় পরিচিত মুখ হওয়ার সুবাদে ইয়াসিন খুব সহজেই সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন। সেই প্রভাব খাটিয়েই তিনি দীপু দাসের (Dipu Das) বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি করেন এবং হত্যায় নেতৃত্ব দেন। এই গ্রেপ্তারের ফলে দীপু হত্যা মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ২১-এ।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ ডিসেম্বর। ময়মনসিংহের মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা দীপু দাস গত দু’বছর ধরে ভালুকার একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ওইদিন রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ একদল উত্তেজিত জনতা কারখানায় হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর শুরু করে। এরপর দীপুকে জোর করে টেনে-হিঁচড়ে কারখানার বাইরে বের করে আনা হয়। শুরু হয় গণপিটুনি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দীপুর।
কিন্তু নৃশংসতা সেখানেই থামেনি। মৃতদেহকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নিয়ে গিয়ে একটি গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। সেই সঙ্গে চলতে থাকে স্লোগান। এই পৈশাচিক ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে রটানো হয়েছিল যে, ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে দীপুকে হত্যা করা হয়েছে। তবে তদন্তের পর বাংলাদেশের র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সেই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। র্যাবের দাবি, ধর্ম অবমাননার বিষয়টি ছিল একটি পরিকল্পিত গুজব। মূলত ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দীপুকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন ইয়াসিন আরাফাত। তিনি নিজেই এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।