উমর খালিদকে চিঠি লেখায় মামদানির উপর ক্ষুব্ধ দিল্লি

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১০:৩০: সম্প্রতি ভারতের জেলে বন্দি উমর খালিদের উদ্দেশে একটি চিঠি লিখেছিলেন নিউ ইয়র্কের ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র জোহরান মামদানি। গত ডিসেম্বরে আমেরিকায় গিয়ে মামদানির সঙ্গে দেখা করেছিলেন উমরের বাবা-মা। সেই সময় উমরের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজের হাতে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি লিখেছিলেন মামদানি। নিউ ইয়র্কের মেয়রের হাতে লেখা সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসে কিছু দিন আগে। সুপ্রিম কোর্টে যে দিন উমরদের জামিনের মামলার শুনানি ছিল, তার আগে ওই চিঠি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন উমরের বান্ধবী বনজ্যোৎস্না লাহিড়ি।
তার পরেই শুরু হয় বিতর্ক। ওই চিঠি ঘিরে শুক্রবার কড়া প্রতিক্রিয়া দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হল, অন্য গণতন্ত্রের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতাকে সম্মান করা প্রত্যাশিত। এদিন এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা আশা করি, জন প্রতিনিধিরা অন্য গণতন্ত্রের বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতাকে সম্মান করবেন। ব্যক্তিগত পক্ষপাত প্রকাশ করা পদাধিকারীদের শোভা পায় না। এ ধরনের মন্তব্যের বদলে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে মন দেওয়া উচিত।”
২০২০ সালে গ্রেফতার করা হয়েছিল দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমরকে। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি জেল খাটছেন। দিল্লি পুলিশের অভিযোগ, ২০২০ সালে দিল্লিতে হিংসার ঘটনায় অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী উমর। তাঁর সঙ্গে জেলে রয়েছেন আর এক প্রাক্তন ছাত্রনেতা শারজিল ইমামও। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের জামিনের মামলার শুনানি ছিল। মোট সাত অভিযুক্তের মধ্যে পাঁচ জনের জামিন মঞ্জুর করেছে শীর্ষ আদালত। উমর এবং শারজিল জামিন পাননি। আদালত জানিয়েছে, অন্তত এক বছর পর তাঁরা ফের জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই মামলার সুরক্ষিত কয়েক জন সাক্ষীর জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব এখনও বাকি। এক বছরের আগে সেই জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হয়ে গেলে আগেই জামিনের নতুন আবেদন করা যাবে।