প্রতিবাদের আগুন! মহিলাদের প্রতীকী বিদ্রোহে কাঁপছে ইরান

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১২:০৬: ইরানে আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ। কড়া সামাজিক বিধিনিষেধ, বাধ্যতামূলক হিজাব এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বার আরও সাহসী ও প্রতীকী পথে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ইরানের মহিলারা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ছবিতে দেখা গিয়েছে—ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি পুড়িয়ে সেই আগুনে প্রকাশ্যে সিগারেট ধরাচ্ছেন প্রতিবাদী মহিলারা। এই দৃশ্য এক মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।
এই প্রতিবাদের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর। ইরানের আইনে শিয়া ধর্মপ্রধানের ছবি পোড়ানো গুরুতর অপরাধ। একই সঙ্গে জনসমক্ষে মহিলাদের ধূমপান সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবে নিষিদ্ধ। এই দুই নিষেধাজ্ঞাকে একসঙ্গে অমান্য করে প্রতিবাদকারীরা শুধু রাষ্ট্রের কর্তৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ করছেন না, বরং নারীদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চাপিয়ে দেওয়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণকেও প্রকাশ্যে অস্বীকার করছেন।
এই বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি অর্থনৈতিক ক্ষোভ। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার দরপতন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক দাম সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা শাসকগোষ্ঠীর শীর্ষ নেতাদের ছবি পোড়াচ্ছেন, কোথাও কোথাও ভাঙচুর করা হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের মূর্তি। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, বর্তমান প্রতিবাদ সেই ধারারই আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া রূপ।
যদিও বড় জমায়েত ও মিছিল কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে, প্রতিবাদের ভাষা বদলে গিয়েছে। এখন ছোট ছোট প্রতীকী কর্মসূচির মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। ইন্টারনেট বন্ধ করেও এই প্রতিবাদের বিস্তার পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। নেটব্লকস জানিয়েছে, সরকার ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করেছে, তবু প্রতিবাদের বার্তা দেশ-বিদেশে পৌঁছে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে বিদেশি শক্তির প্রভাবের অভিযোগ তুলেছেন। অন্য দিকে, আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির গণপ্রতিবাদের আহ্বানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের প্রতীকী প্রতিবাদ দমন করা প্রশাসনের পক্ষে কঠিন। বড় মিছিল না থাকলেও, প্রতিটি ছবি ও ভিডিও রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ভেঙে আন্তর্জাতিক পরিসরে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট আবারও বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে চলে এসেছে।