নেপাল-বাংলাদেশের ছায়া কি এবার পাকিস্তানেও? তরুণ গবেষকের কলমে ‘জেন জি’ বিপ্লবের ইঙ্গিত!

January 6, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২১:৩০: বাংলাদেশ ও নেপালের ছাত্র-জনতার সফল অভ্যুত্থানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কি পাকিস্তানেও (Pakistan) পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে? নতুন বছরের শুরুতে এক পাকিস্তানি তরুণ গবেষকের একটি সাহসী লেখাকে কেন্দ্র করে এমনই জল্পনা এখন তুঙ্গে। জোরাইন নিজামানি নামের ওই তরুণের লেখাটি প্রকাশ হওয়ার পরেই প্রশাসন তা সরিয়ে দিলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ‘নিষিদ্ধ’ লেখাই পাকিস্তানে ‘জেন জি’ (Gen Z) বা তরুণ প্রজন্মের বিপ্লবের সলতে পাকানোর কাজ করতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত ১লা জানুয়ারি। পাকিস্তানের জনপ্রিয় ইংরেজি দৈনিক ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এ জোরাইন নিজামানির একটি উপসম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘ইট ইজ ওভার’ (It is over) বা ‘সব শেষ হয়ে গিয়েছে’। সেখানে তিনি নির্দ্বিধায় লেখেন, “ক্ষমতায় থাকা বয়স্কদের দিন শেষ। আপনারা তরুণদের যা গেলানোর চেষ্টা করছেন, তারা তা আর মেনে নিচ্ছে না।” লেখাটি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলা হয়। কিন্তু ততক্ষণে এর স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায় এবং তরুণ সমাজের মধ্যে বিপুল সাড়া জাগায়।

সেনাবাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও, জোরাইনের লেখার প্রতিটি ছত্রে ছিল বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ। ভাইরাল হওয়া সেই নিবন্ধে তিনি তুলে ধরেছেন প্রজন্মের ব্যবধান ও শাসকদের অদূরদর্শিতার চিত্র। তিনি লিখেছেন, আজকের তরুণরা চায় দ্রুত গতির ইন্টারনেট ও সস্তা স্মার্টফোন, যাতে তারা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করতে পারে। কিন্তু শাসকরা ব্যস্ত ইন্টারনেটে ফায়ারওয়াল বসাতে এবং নতুন নতুন কর চাপাতে। তরুণ প্রজন্ম ফ্রিলান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা চায়, আর বয়স্ক শাসকরা কেবল নিজেদের ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতেই ব্যস্ত।দেশপ্রেম নিয়ে শাসকদের জোরজবরদস্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেমিনার করে বা জোর করে দেশপ্রেম শেখানো যায় না। দেশে সমান সুযোগ ও উন্নত পরিকাঠামো থাকলে দেশপ্রেম এমনিতেই তৈরি হয়।

পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই উত্তপ্ত। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবাস এবং রাজনীতি ও প্রশাসনে সেনাবাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, জোরাইনের এই লেখা সেই জমে থাকা ক্ষোভে ঘৃতাহুতির কাজ করেছে।

 

 

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen